সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এক অসহায় বিধবাকে বিয়ে করে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন পল্লব কুমার দাস শুভ্র। কিন্তু সেই মানবিক উদ্যোগই এখন তার ও তার পরিবারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে স্ত্রীর পূর্বের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অব্যাহত হামলা, মামলা ও প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এই দম্পতি।
ভুক্তভোগী পল্লব কুমার দাস শুভ্র যশোর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুব বিষয়ক সম্পাদক।
জানা যায়, পল্লব দাসের বর্তমান স্ত্রী তার প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ভরণপোষণ ও সম্পত্তির অধিকারের দাবিতে আইনি লড়াই করছিলেন। সে সময় তার প্রথম স্বামীর সৎ ভাই গৌরাঙ্গ বিশ্বাস রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ঘরছাড়া করেন এবং মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করেন। অসহায় ওই নারীর পাশে দাঁড়িয়ে পল্লব তাকে বিয়ে করে সামাজিক মর্যাদা দেন। কিন্তু এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি গৌরাঙ্গ ও তার প্রভাবশালী চক্রটি। বিয়ের পর থেকেই পল্লব ও তার পরিবারকে লক্ষ্য করে শুরু হয় নানামুখী ষড়যন্ত্র ও শারীরিক নির্যাতন।
সম্প্রতি এই শত্রুতা নতুন মাত্রা পায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে। যশোর সদরের বিরামপুর এলাকায় পল্লবের প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর গৌরাঙ্গ অবৈধভাবে মেইন খুঁটি থেকে ‘হুক’ সংযোগ নিলে পল্লবের বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পল্লব বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে বিদ্যুৎ বিভাগ অভিযান চালিয়ে গৌরাঙ্গকে জরিমানা করে এবং তার মিটার জব্দ করে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর গৌরাঙ্গ ও তার সহযোগীরা পল্লবের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় পল্লব, তার স্ত্রী ও তাদের দুই বছরের শিশু সন্তান গুরুতর আহত হন।
আইনের তোয়াক্কা করছে না অভিযুক্তরা
ভুক্তভোগী পল্লব জানান, বারবার থানায় জিডি ও অভিযোগ দিলেও প্রভাবশালী মহলের মদদে পার পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। গত ১১ ফেব্রুয়ারি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় হামলার চেষ্টা চালানো হলে ‘৯৯৯’-এ কল করার পর পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পল্লব কুমার যশোর জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি গৌরাঙ্গকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা অমান্য করেন। উপরন্তু, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দোহাই দিয়ে তিনি এলাকায় প্রচার করছেন যে, “বর্তমানে পুলিশকে গোনার সময় তার নেই।”
প্রশাসনের বক্তব্য
পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কর্মকর্তা তিতুমির জানান:
> “অভিযুক্ত গৌরাঙ্গকে আমি নিজে ফোন করে অফিসে উপস্থিত হতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি।”
>
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। যশোর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

