কালীগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানার সামনে ও অভ্যন্তরে এই নজিরবিহীন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সাবেক প্রার্থী রাশেদ খানের দলীয় কার্যালয়ে মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি সভা চলছিল। সভা চলাকালীন স্থানীয় বিএনপি নেতা মতি মিয়া ও পিন্টুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা চরম উত্তজনায় রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
থানার ভেতরেও তাণ্ডব
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে এক পক্ষ ধাওয়া খেলে অন্য পক্ষ প্রাণ বাঁচাতে কালীগঞ্জ থানার ভেতরে আশ্রয় নেয়। তবে হামলাকারীরা থানার ভেতরে ঢুকেও প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গেলে তারাও হামলার শিকার হন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লার হোসেন জানান, “উভয় পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের চার কনস্টেবলসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
থানার মতো সুরক্ষিত জায়গায় এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শহরজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।?

