২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমবারের মতো আসামি হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু শেখ হাসিনাই নন, এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ আরও বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য।
বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন গণমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এল নেপথ্যের নাম
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্য কুশীলব হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নাম স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন:
> “সাক্ষীদের জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা, ফজলে নূর তাপস এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অনেকের নাম এসেছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার আইনি বিধান রয়েছে।”
>
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। মামলাটির বর্তমান চিত্র নিম্নরূপ:
* আসামি সংখ্যা: প্রায় ৮৫০ জন।
* সাক্ষী: মোট ১ হাজার ২০০ জন (এর মধ্যে ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে)।
* জামিন: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই মামলার কয়েকশ আসামি জামিন পেয়েছেন।
পূর্ববর্তী রায় ও ইতিহাসের সেই কালো দিন
২০০৯ সালের সেই রক্তাক্ত দিনে পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় ইতোমধ্যেই বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে ঘোষিত হয়েছে:
* বিচারিক আদালত (২০১৩): ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
* হাইকোর্ট (২০১৭): ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও খালাস পান ২৮৩ জন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উদঘাটনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতাদের আসামি করার মাধ্যমে এই কলঙ্কিত অধ্যায়ের প্রকৃত সত্য এবং মাস্টারমাইন্ডদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

