২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যাকাণ্ডে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি)। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) বিষয়টি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে, অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজাটি অপর্যাপ্ত। সেই সাজাটিকেও সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে গত ১৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ এই আপিল আবেদনটি দাখিল করে।
আপিল আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষ মোট আটটি সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যে মাত্রায় গণহত্যা ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তাতে দোষীদের কোনোভাবেই মৃত্যুদণ্ডের নিচে সাজা দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধের গুরুত্ব ও জনআকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়েই এই আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
মামলার অন্যান্য দিক
* রাজসাক্ষী: এই একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতা করায় আদালত তাকে তুলনামূলক নমনীয় সাজা হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
* পলাতক আসামি: ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল বিদেশে পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতেই (ইন অ্যাবসেন্টিকা) ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং আপিল বিভাগেও তাদের অনুপস্থিতিতেই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজকের শুনানির দিকে দেশবাসীর তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানির পর জানা যাবে উচ্চ আদালত সাজার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শুনানিটি জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।?

