যশোরের জনতা ক্লিনিকের নিজস্ব ফার্মেসিতে ওষুধের অতিরিক্ত দাম রাখা এবং বিল নিয়ে প্রতিবাদ করায় রোগীর স্বজনকে মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। ওষুধের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে ফার্মেসি ইনচার্জ ও রোগীর স্বজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের হাজেরা বেগম (৬০) জনতা ক্লিনিকে ভর্তি হন। সোমবার তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেওয়ার সময় ওষুধের বিল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
হাজেরা বেগমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ক্লিনিকের ফার্মেসি থেকে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির ওষুধ কিনতে তাদের বাধ্য করা হয়েছিল। সোমবার ছাড়পত্রের সময় ১০ হাজার টাকার ওষুধের বিল দেওয়া হলে তিনি বাজারদরের সাথে তার অসামঞ্জস্য খুঁজে পান।
মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, “বাজারের তুলনায় ওষুধের দাম অনেক বেশি রাখা হয়েছে। আমি যখন অতিরিক্ত দামের বিষয়ে জানতে চাই, তখন ফার্মেসির দায়িত্বে থাকা জহুরুল ইসলাম বনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং আমাকে মারতে উদ্যত হন।” এ সময় উপস্থিত রোগীর আরেক স্বজন মহাসিন আলী প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির উপক্রম হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফার্মেসি ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম বনি। তিনি দাবি করেন, “আমি অন্য রোগীর ওষুধ সরবরাহে ব্যস্ত ছিলাম। তাদের কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে বলায় একটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। ওষুধের অতিরিক্ত দাম রাখা কিংবা মারধরের চেষ্টার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
হাসপাতাল চত্বরে এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় উপস্থিত অন্যান্য রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীর স্বজনদের সাথে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
> ভোক্তা অধিকার সচেতনতা: ওষুধের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (MRP) চেয়ে বেশি দাম রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।

