যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে একটি সাধারণ পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিকার এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী গোলাম রসুল। তিনি অভিযোগ করেন, চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রাকা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি ভুক্তভোগীদের পৈতৃক বসতভিটার ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরির অজুহাতে জমি দখলের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দিলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শাহ আলম রাকা ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রাথমিক বিরোধের পর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে অভিযুক্তরা তাদের বাড়িতে চড়াও হয়। হামলাকারীরা বাড়ির গেট, দেয়াল ও সীমানা পিলার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এ সময় ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫২ হাজার টাকা এবং রুপার গহনাসহ প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। উল্টো অভিযোগ রয়েছে যে, প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ ভুক্তভোগীদেরই হয়রানি করছে। এমনকি অভিযুক্তদের করা পাল্টা মামলায় ভুক্তভোগী গোলাম রসুলের পিতা ও বোনের জামাতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দোষী শাহ আলম রাকা ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।?

