যশোর সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের আকাশ নামে এক যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার ও স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী আকাশের মা রিনা পারভীন বাদী হয়ে গত ২১ জানুয়ারি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কোতোয়ালি থানায় মামলাটি নিয়মিত হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
১. কাজী সফিকুর রহমান (কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের বারাইশ গ্রামের বাসিন্দা)
২. কনিকা আক্তার (মাদারীপুর সদরের ত্রিভাগদী গ্রামের বাসিন্দা)
৩. হেমায়েত খান (শরীয়তপুরের পালং থানার নিয়ামতলু গ্রামের বাসিন্দা)
৪. সুলতান (নোয়াখালী সদরের গোসবাগ গ্রামের বাসিন্দা)
ঘটনার বিবরণ ও পাচারের কৌশল
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রিনা পারভীনের মেয়ে ফারজিয়া ইসলামের মাধ্যমে আসামি কনিকা আক্তারের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। সেই সূত্রে কনিকা ও অন্য আসামিরা আকাশকে উচ্চ বেতনে ইতালিতে চাকরির প্রলোভন দেখান। এতে রাজি হয়ে আকাশের পরিবার গত ১০ ও ১১ জানুয়ারি দুই দফায় আসামিদের মোট ৭ লাখ টাকা প্রদান করেন।
গত ৮ নভেম্বর আকাশকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে প্রথমে বাহরাইন ও পরে জেদ্দায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কৌশলে সৌদি আরবে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। এরপর গত ১৪ নভেম্বর তাকে মিশরে এবং পরবর্তীতে নৌপথে বা অন্য উপায়ে লিবিয়ায় পাচার করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর আসামিদের সহযোগীরা আকাশকে একটি অজ্ঞাত স্থানে বন্দি করে রাখে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরবর্তীতে তাকে ইতালি পাঠানোর নাম করে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ছেলের প্রাণের মায়ায় নিরুপায় হয়ে রিনা পারভীন ধারদেনা করে আসামি সুলতানের ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও আসামিরা আকাশকে মুক্তি দেয়নি বা তার সাথে পরিবারের যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়নি।
প্রাথমিকভাবে রিনা পারভীন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে অবশেষে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং পাচার হওয়া যুবককে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

