নির্বাচনোত্তর সহিংসতা ও পরাজয়ের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির রাজনীতি। দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। অভিযোগ উঠেছে আর্থিক অনিয়ম ও পরোক্ষভাবে বিপক্ষ শক্তির হয়ে কাজ করার।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা টিএস আইয়ুবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। সভার মূল পয়েন্টগুলো ছিল:
* সমন্বয়হীনতা ও অসহযোগিতা: জেলা বিএনপির সদস্য ফারাজীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে টিএস আইয়ুবের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সাংগঠনিক সহযোগিতা মেলেনি।
* আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান দাবি করেন, টিএস আইয়ুব কৌশলগতভাবে বিএনপি ও জামায়াত—উভয় পক্ষ থেকেই আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। তার দাবি, আইয়ুব পরোক্ষভাবে অন্য প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে ধানের শীষের ক্ষতি করেছেন।
* পদ-পদবি বাতিলের দাবি: সভায় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের একাংশ টিএস আইয়ুবের দলীয় পদ-পদবি বাতিলের জোর দাবি জানান। তাদের মতে, এমন “বিশ্বাসঘাতকতা” দলের ভরাডুবির অন্যতম কারণ।
টিএস আইয়ুবের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও ব্যাখ্যা
এদিকে ব্র্যাকমোড়ে আয়োজিত এক পাল্টা সভায় ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। :
* অর্থ বণ্টন: প্রার্থীর পক্ষ থেকে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ম মেনেই প্রতিটি ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অস্বচ্ছতা নেই।
* রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা: জামায়াতের পক্ষে কাজ করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তবে তিনি রাজনীতি থেকে চিরবিদায় নেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
* ঐক্যের ডাক: তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ভুল বোঝাবুঝি আখ্যা দিয়ে ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে দলকে শক্তিশালী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যশোরের একাধিক আসনে বিএনপির ভরাডুবির পেছনে আওয়ামী লীগের দাপটের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও সমন্বয়হীনতা। বাঘারপাড়ার এই প্রকাশ্য বিরোধ প্রমাণ করে যে, তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দূরত্ব এখন চরম পর্যায়ে। এই কোন্দল নিরসন না হলে ভবিষ্যতে সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

