ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী দেশজুড়ে সহিংসতা, নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, নারী নির্যাতন এবং ৩০টি আসনে পরিকল্পিত ভোট কারচুপির প্রতিবাদে আজ সোমবার রাজধানীতে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করবে।
শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি
বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। গতকাল রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাক্ষাতের পর জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য সত্ত্বেও জোটের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে:
* নিপীড়ন ও সহিংসতা: নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
* ভোট কারচুপি: অন্তত ৩০টি আসনে ‘পরিকল্পিত কারচুপি’ হয়েছে দাবি করে সেসব আসনে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যজোট।
* প্রশাসনের ভূমিকা: সহিংসতা রোধে প্রশাসনের নিস্পৃহতাকে দায়ী করে আজ রাজপথে শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
নির্বাচনী ফলাফলে জোটের অবস্থান
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। এতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জোটের দলভিত্তিক আসন সংখ্যা হলো:
* বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি (দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন)।
* জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৬টি।
* বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২টি।
* খেলাফত মজলিস: ১টি।
নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে থাকলেও, জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোট শক্তিশালী বিরোধী অবস্থান তৈরি করেছে। আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে

