উৎসবমুখর পরিবেশ ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক গণভোট। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। এখন দেশজুড়ে চলছে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা—কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনা শুরু হয়েছে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অনেককে সপরিবারে ভোট দিতে আসতে দেখা গেছে। রাজধানীর মগবাজার, বনানী ও ধানমন্ডি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ।
বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সচিব আখতার আহমেদ জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে গড় ভোটের হার ছিল ৪৭.৯১ শতাংশ। তিনি দাবি করেন, বিচ্ছিন্ন কিছু অনিয়ম ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সারাদেশে মোতায়েন ছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীর টহল ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল একই সঙ্গে দুটি ব্যালটে ভোট গ্রহণ:
* সাদা ব্যালট: সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য।
* গোলাপি ব্যালট: ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ বা সংবিধানের আমূল সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায়ের জন্য।
১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটারের এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি উঠেছিল, এই গণভোটের মাধ্যমেই তার চূড়ান্ত জনমত প্রতিফলিত হবে।
প্রার্থী ও আসন পরিস্থিতি
উল্লেখ্য যে, শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে আজ ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
> সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গণভোট ও সাধারণ নির্বাচনের ব্যালট আলাদা হওয়ায় এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রক্রিয়ার কারণে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

