উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যশোরের কেশবপুরে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। দীর্ঘ আড়াই দশক পর অনেক ভোটার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে অন্যরকম আবেগ ও উদ্দীপনা।
এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে এনে সকাল সাড়ে ৭টা নির্ধারণ করা হলেও, ভোটারদের উপস্থিতি শুরু হয়েছে তারও অনেক আগে থেকে। বিশেষ করে মজিদপুর জামিয়া মাদানিয়া কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী চিত্র। ফজরের নামাজ শেষ করেই ভোটাররা কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে যান। সময় পরিবর্তনের নতুন সিদ্ধান্তে ভোটারদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
এই কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন মজিদপুর গ্রামের ৮৭ বছর বয়সী বৃদ্ধ বজলুর রহমান। ২০০১ সালের পর দীর্ঘ ২৫ বছর নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিকূলতায় ভোট দিতে পারেননি তিনি। আজ ভোট দিয়ে আবেগপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন:
> “দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলাম। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাই ফজরের নামাজ পড়েই কেন্দ্রে চলে এসেছি।”
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কারণে এবার ব্যালট পেপার দুটি। ফলে ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতির হলেও ভোটারদের মাঝে কোনো বিরক্তি দেখা যায়নি।
মজিদপুর জামিয়া মাদানিয়া কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রের (১৬ নং কেন্দ্র) প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী এম. এ. জাসির জানান:
* নির্ধারিত সময়ের আগেই সকল কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে ভোটগ্রহণ শুরু করেছেন।
* কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এজেন্টরা উপস্থিত রয়েছেন।
* ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে ভোট প্রদানের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কেশবপুরের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারছেন।

