নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর যশোর সদর উপজেলার ৪নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে বড় ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নাম, বাবার নাম এবং চেহারার অদ্ভুত মিল থাকার অজুহাতে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
ভোটকেন্দ্র সূত্র জানায়, বাহাদুরপুর গ্রামের মোশারেফ হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন প্রান্ত রোববার নির্ধারিত কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যান। তবে বুথে যাওয়ার পর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে জানান যে, তার ভোটটি আগেই প্রদান করা হয়ে গেছে। এতে হতভম্ব হয়ে প্রান্ত তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করলে পোলিং অফিসার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একজন ভোটারের অনুপস্থিতিতে অন্য কেউ তার ভোট দিয়ে যাওয়ায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার আতিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটিকে একটি ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন:
* উভয় ব্যক্তির নাম ও বাবার নাম হুবহু এক।
* তাদের চেহারার মধ্যেও যথেষ্ট মিল রয়েছে।
* এই বিভ্রান্তির কারণেই ভুলবশত একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে ফেলেছেন।
তবে আতিয়ার রহমান স্বীকার করেছেন যে, একই কেন্দ্রে এর আগেও একই ধরনের ভুলের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আপত্তিকৃত এই ভোটটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোটারদের ক্ষোভ
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সচেতন মহলের মতে, আধুনিক ডিজিটাল ভোটার তালিকার যুগে এই ধরনের ‘পরিচয় বিভ্রাট’ কেবল দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের আরও সতর্কতা এবং কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
> প্রান্তিক প্রতিক্রিয়া: “আমার নাগরিক অধিকার অন্য কেউ কেন ব্যবহার করবে? চেহারার মিল থাকলেও ভোটার আইডি কার্ড বা আঙ্গুলের ছাপ যাচাই করার কথা ছিল। এই গাফিলতি মানা যায় না।” — ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হোসেন প্রান্ত।

