বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, দেশে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শাসক পরিবর্তন হলেও শোষণের পুরোনো ধরন এখনো রয়ে গেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চব্বিশের গণবিপ্লবের সুফল নস্যাৎ করে একদল মানুষ নতুন করে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতের শাসকদের সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, “বিগত শাসকরা দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হয়েছে। আমরা এই লুটপাট ও দুর্নীতির শৃঙ্খল ভাঙার লড়াই করছি।” তিনি দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলার মানুষ আর কোনো স্বৈরতন্ত্রকে বরদাশত করবে না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাওলানা মামুনুল হক ১১ দলের জোটের পক্ষে জনমত তৈরির ডাক দেন। তিনি বলেন, “দেশের স্থায়ী শান্তি ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে ১১ দলের প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করুন।”
বক্তব্য শেষে তিনি কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে জোটের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ হাদী-কে উপস্থিত জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। জয়ী হলে সদর ও হোসেনপুর এলাকার অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়নের ব্যাপক প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচনী এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে সমবেত হতে থাকেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোমেন শেরজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

