যশোরের ঝিকরগাছায় এনজিও প্রতিষ্ঠান আরআরএফের (রুরাল রিকন্সট্রাকশন ফাউন্ডেশন) গেস্ট হাউজে এক নারী কর্মকর্তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পিয়ন যোহন বিশ্বাস ওরফে জন বিশ্বাসকে (৩৬) আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি গত ২৮ জানুয়ারি ঘটলেও শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তা জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
আটক যোহন বিশ্বাস ঝিকরগাছার শিমুলিয়া গ্রামের মৃত জোসেফ পিদমন্ডলের ছেলে। এই ঘটনায় ভিকটিমের মা, যিনি আরআরএফ-এর যশোর কার্যালয়ের একজন নারী কর্মকর্তা, বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম কিশোরী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় বাড়িতেই থাকতেন। তার মা প্রতিদিন সকালে দাপ্তরিক কাজে যশোর শহরে আসতেন এবং রাতে ফিরতেন। গত ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন তার মেয়ে বাসায় নেই। এর কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত যোহন বিশ্বাস মোটরসাইকেলে করে ওই কিশোরীকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দ্রুত চলে যায়।
পরবর্তীতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে জানায়, ‘যোহন মামা’ তাকে ফুসলিয়ে আরআরএফের গেস্ট হাউজে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানির পর প্রথম থেকেই প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। ভিকটিমের মা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে যোহনের কাছে কৈফিয়ত চাইলে যোহন ও তার বড় ভাই সুনীল বিশ্বাস ওই নারী কর্মকর্তাকে মারধর করে আহত করেন।
কিশোরীটিকে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকালে ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ঝিকরগাছা থানার এসআই মোল্লা রেজাউল করিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই গত ২৯ জানুয়ারি রাতে শিমুলিয়া মোড় এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত যোহন বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। তবে মামলার অপর আসামি সুনীল বিশ্বাস এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

