ঢাকা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেশের মানুষের জন্য একটি সমন্বিত ও সংস্কারমুখী নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপির এই ইশতেহারকে পাঁচটি বিশেষ ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগ ও পুলিশের স্বাধীনতা এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
২. বৈষম্যহীন সমাজ: দারিদ্র্য বিমোচন, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা।
৩. অর্থনীতির পুনর্গঠন: ব্যাংক খাত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ও আইসিটি খাতের আধুনিকায়ন।
৪. অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন: চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা এবং হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা।
৫. সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি: ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, পাহাড়-সমতলের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
ইশতেহারে সাধারণ মানুষের মন জয়ে ৯টি বিশেষ পয়েন্টে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:
* ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক পরিবারগুলোকে মাসে ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের পণ্য প্রদান।
* কৃষক কার্ড: ভর্তুকি, ঋণ এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ।
* স্বাস্থ্যসেবা: ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
* শিক্ষাব্যবস্থা: প্রাথমিক শিক্ষায় ‘মিড-ডে মিল’ চালু এবং কর্মমুখী শিক্ষানীতি।
* তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন: মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ এবং স্টার্টআপ সহায়তা।
* ক্রীড়া উন্নয়ন: ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো নির্মাণ।
* পরিবেশ ও জলবায়ু: ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ১০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন।
* ধর্মীয় কল্যাণ: সব ধর্মের উপাসনালয়ের নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।
* প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সংযোগ: বহুল প্রতিক্ষিত ‘পেপাল’ (PayPal) চালু এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার।
ইশতেহার ঘোষণা করে বিএনপি জানিয়েছে, এটি কেবল নির্বাচনী ওয়াদা নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে— বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। “লুটপাট নয় উৎপাদন, ভয় নয় অধিকার”—এই মূলমন্ত্রেই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
?

