যশোরে রাজনীতি অনেকের কাছে কেবলই পদ-পদবির লড়াই, কিন্তু যশোর সদরের কচুয়া ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের প্রবীণ আনোয়ার মজলিসের কাছে এটি আজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য আবেগ। যৌবন থেকে বার্ধক্য—পুরোটা সময় কাটিয়েছেন বিএনপির পতাকা তলে। শহীদ জিয়ার আদর্শ আর তরিকুল ইসলামের স্নেহে বড় হওয়া এই রাজনীতিকের শেষ বয়সের একটিই বড় আক্ষেপ ছিল—যশোরের গণমানুষের নেতা প্রয়াত তরিকুল ইসলামের পুত্র অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে একবার চোখের দেখা দেখা।
অবশেষে বুধবার সকালে সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্তটি ধরা দিল। হুইলচেয়ারে ভর করে অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি ছুটে এলেন কৈখালী মোড়ে অমিতের নির্বাচনী পথসভায়।
আনোয়ার মজলিস বিএনপির রাজনীতির সেই সময়ের সাক্ষী, যখন তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতির কিংবদন্তি তরিকুল ইসলামের সান্নিধ্য পেয়েছেন। তবে তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য সন্তান অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তাঁর আগে হয়নি।
এদিন সকালে পথসভায় যখন অমিত বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ভিড়ের এক কোণে হুইলচেয়ারে বসা বৃদ্ধ আনোয়ারকে দেখা যায় দারুণ উচ্ছ্বসিত। তরুণ কোনো কর্মীর মতো করেই হাততালি দিয়ে নেতার কথাকে সমর্থন জানাচ্ছিলেন তিনি।
নেতার সাথে সেই আবেগঘন সাক্ষাৎ
> “তরিকুল সাহেবের স্নেহ পেয়ে আমি রাজনীতি করেছি। আজ তিনি নেই, কিন্তু অমিতকে যখন দূর থেকে দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল আমার সেই পুরনো নেতাই যেন ফিরে এসেছেন। ওর চেহারায় আমি তরিকুল ইসলামকেই খুঁজে পাই।”
>
দূর থেকে বৃদ্ধের এমন আকুলতা চোখ এড়ায়নি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের। বক্তব্য শেষ করেই প্রটোকল ভেঙে তিনি ছুটে যান আনোয়ার মজলিসের কাছে। পরম মমতায় প্রবীণ এই কর্মীর হাত জড়িয়ে ধরেন, নেন দোয়া। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মাঝেও এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আনোয়ার মজলিসের এই ভালোবাসা প্রমাণ করে দেয়, নিঃস্বার্থ আদর্শ থাকলে রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে পরম শ্রদ্ধার এক বন্ধন। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও ধমনীতে বয়ে চলা জিয়ার আদর্শ আর তরিকুল পরিবারের প্রতি এই প্রবীণ কর্মীর ভালোবাসা যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।

