ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও উন্নয়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্যকে (ভিসি) ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন। এসময় তারা প্রশাসনের ‘উদাসীনতা’ ও ‘ব্যর্থতা’র বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে। তাদের কণ্ঠে শোনা যায়— “যবিপ্রবির অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “দালালি না আজাদি, আজাদি আজাদি”, এবং “আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম”।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা তাদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে উত্থাপন করে আসছেন। কিন্তু বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তপু ইসলাম বলেন:
> “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। এই লাল কার্ড প্রদর্শন মূলত প্রশাসনের অবহেলার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী হুঁশিয়ারি। আমরা সংঘাত চাই না, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাই।”
উল্লেখ্য যে, শিক্ষার্থীদের এই ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার।
২. অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসন।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের মানোন্নয়ন।
৪. ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ।
৫. ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি একই দাবিতে উপাচার্যকে ‘মূলা প্রদর্শন’ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। তখন দাবি পূরণের জন্য নির্দিষ্ট আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও তা পূরণ না হওয়ায় এবার তারা ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের মতো কঠোর প্রতীকী অবস্থান নিলেন।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অতি দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না দেখলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

