বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতা ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর ‘অসৎ আচরণ’ এবং পূর্ব সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করার কারণেই তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর স্পষ্ট করেন যে, তাদের সাথে প্রাথমিকভাবে কোনো ‘জোট’ নয়, বরং ৮ দলীয় একটি সমঝোতা হয়েছিল। তিনি বলেন:
> “জোট ও সমঝোতার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। জোটে একজনকে নেতৃত্বে থাকতে হয়, কিন্তু সমঝোতায় কোনো একক নেতৃত্ব থাকে না; সব সিদ্ধান্ত পরামর্শের ভিত্তিতে হয়।”
রেজাউল করীম অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের সাথে আলোচনা না করেই সমঝোতাকে ‘জোটের’ রূপ দিয়েছে এবং আট দলের বাইরেও অন্যান্য দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি বলেন:
* অন্যান্য দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আগে বা পরে কোনো আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে।
* নিজেদের ভেতর সৌহার্দ্য এবং দেশের স্বার্থের চেয়ে একক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিল সেখানে।
* এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে ইসলামের প্রকৃত স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বেরিয়ে আসার চূড়ান্ত কারণ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর ইসলামী আন্দোলনকে জানানো হয়েছিল যে নতুন দল অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, “আমরা দেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং ইসলামের পক্ষে একটি ভোটের বাক্স নিশ্চিত করতে একত্র হয়েছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম সেখানে ইসলাম নেই, দেশের স্বার্থ নেই এবং আচরণের স্বচ্ছতা নেই, তখনই আমরা বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিই।”
বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বতন্ত্রভাবে তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

