অন্য আসামির পরিচয়ে খুনের আসামির পলায়ন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে ডেপুটি জেলারসহ ৬ জন বরখাস্ত

আরো পড়ুন

, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে নিরাপত্তা ও নথি যাচাইয়ের ভয়াবহ গাফিলতির সুযোগ নিয়ে এক দুর্ধর্ষ কায়দায় পালিয়েছে হত্যা মামলার এক হাজতি। জামিনপ্রাপ্ত অন্য এক আসামির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক ডেপুটি জেলারসহ ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ কারা সূত্র জানায়, পলাতক হাজতি হৃদয় (২৮) কসবা থানার নিমবাড়ি এলাকার মুজিবুর মিয়ার ছেলে। তিনি ২০১৮ সালের আখাউড়া থানার একটি হত্যা মামলার (জিআর-৪২০/১৮) আসামি। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে এই পলায়নের ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওইদিন নবীনগর থানার একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া দিদার হোসেন নামের এক বন্দির মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। হৃদয় অন্য বন্দিদের সঙ্গে যোগসাজশে কৌশলে দিদারের নাম ও ঠিকানা নিজের বলে চালিয়ে দেন। মুক্তি প্রক্রিয়ার সময় গেট, মুক্তি শাখা এবং আইসিটি শাখার কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে যান।
প্রশাসনের পদক্ষেপ এই ঘটনায় কারা অভ্যন্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গুরুতর অবহেলার দায়ে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন:
* মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম (ডেপুটি জেলার)
* শাহাদাত হোসেন (সর্বপ্রধান কারারক্ষী)
* সহ আইসিটি, পিসিআইডিএস ও গেট শাখার আরও ৪ জন কারারক্ষী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পলাতক হৃদয়কে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। বরখাস্ত হওয়াদের স্থায়ী অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি উল্লেখ্য, এর আগে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেও একই কায়দায় ‘ভুলবশত’ মুক্তি পেয়েছিলেন তিন খুনের আসামি। পরে র‍্যাব-১৪ তাদের টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করে। একের পর এক এমন ঘটনায় কারাগারের নজরদারি ও আধুনিক ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সচেতন মহলের মতে, কারাগারের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন জালিয়াতি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, বরং বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ