রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’তে এক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মামলার প্রধান আসামি ও স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে। ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে শিশুটির ওপর চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে:
* শারীরিক নির্যাতন: ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের পোশাক পরা এক শিশুকে টেনেহিঁচড়ে অফিস কক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান। সেখানে তিনি শিশুটিকে চড় মারেন।
* পাশবিক আচরণ: কক্ষের ভেতরে থাকা ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া শিশুটির গলা চেপে ধরেন এবং মুখ চেপে ধরেন। শিশুটি ভয়ে চিৎকার করে কাঁদলেও তারা থামেননি।
* ভয়াবহ হুমকি: একপর্যায়ে পবিত্র কুমার একটি স্ট্যাপলার হাতে নিয়ে শিশুটির মুখ স্ট্যাপল করে দেওয়ার ভঙ্গি করে তাকে ভয় দেখান। পুরো সময়টি প্রধান শিক্ষিকা শারমিন জাহান শিশুটির হাত ধরে আটকে রেখেছিলেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার পল্টন থানায় শিশু অধিকার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
* গ্রেপ্তার: মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী পবিত্র কুমার বড়ুয়ার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
* অভিযান অব্যাহত: মামলার অপর আসামি ও প্রধান শিক্ষিকা শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি দল অভিযান চালাচ্ছে।
* স্কুল বন্ধ: ঘটনার পর থেকেই ‘শারমিন একাডেমি’ নামক ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পল্টন থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে হাজার হাজার মানুষ এই অমানবিক ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা শিশুদের মানসিক বিকাশে কতটা অন্তরায় হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও মানবাধিকার কুর্মীরা।?

