কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রধানের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামকে (উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের আদর্শ বাজার (সরাইপাড়) এলাকার বাসিন্দা) গ্রেপ্তার করে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ ও ঘটনাপ্রবাহ:
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, রিয়াজুল ইসলাম ইউনিয়নের মাটিয়াল আদর্শ বাজারে অবস্থিত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় সস্ত্রীক বসবাস করতেন। অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ অক্টোবর রাতে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনি ছাত্রীকে তার আবাসিক কক্ষ থেকে নিজের শোবার কক্ষে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। ছাত্রী বাধা দিলে তার বুকে ও মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরদিন তাকে ব্যথানাশক ওষুধও দেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
পরে ছাত্রীর খালা তাকে মাদ্রাসায় দেখতে গেলে সে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। এরপর ছাত্রীকে তার বাবা বাড়িতে নিয়ে যান।
আটক ও মারধর:
রবিবার (১২ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী শিক্ষক রিয়াজুলকে আটক করে। পরে চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মধ্য প্রামাণিক পাড়ার একটি মক্তবে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার স্বীকারোক্তি আদায় করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, স্ত্রী বাবার বাড়ি যাওয়ায় তিনি ওই দিন রাতে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং ছাত্রী বাধা দেওয়ায় তাকে মারধর করেন।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ শিক্ষককে উদ্ধার করে।
পরিবারের দাবি ও শিক্ষকের স্ত্রীর বক্তব্য:
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, “শুধু আমার মেয়ে নয়, রিয়াজুল আরও কয়েকজন ছাত্রীর ক্ষতি করেছে। সে সেটা স্বীকারও করেছে। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই।”
তবে, অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুলের স্ত্রী এবং বড় ভাই বিজু মিয়া দাবি করেছেন, শিক্ষককে মারধর করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে এবং তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ:
ওসি জিল্লুর রহমান জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। চিলমারী থানা পুলিশ আসামিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

