রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের তাজহাট থানাধীন দমদমা ব্রিজ এলাকায় শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পিকআপ চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মহিগঞ্জগামী একটি পিকআপ দমদমা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ইউটার্ন নেওয়ার সময় ঢাকা থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে, এবং ঘটনাস্থলেই পিকআপের এক যাত্রী ও এক শিশুসহ তিনজন প্রাণ হারান।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, ইউটার্ন নেওয়ার সময় গতি নিয়ন্ত্রণ না রাখা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল উপেক্ষা করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন:
* পিকআপের হেলপার আরিফ (২০), পিতা ইউসুফ, মীরগঞ্জ, তাজহাট, রংপুর।
* যাত্রী শাহিনা (২৮), স্বামী মোতালেব হোসেন, সাতদরগা, পীরগাছা।
* শাহিনার একমাত্র শিশু সন্তান ওয়ালিদ ওরফে স্বাধীন (১)।
দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পিকআপ চালকসহ দুজনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক ও তার সহকারী পালিয়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে ট্রাক ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া পিকআপটি জব্দ করেছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পলাতক ট্রাকচালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য তাজহাট থানা অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে দমদমা ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কের এই অংশে ভোরবেলা ও রাতের দিকে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা দ্রুতগতির যানবাহন, ট্রাফিক সিগন্যাল উপেক্ষা করা এবং সড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাবকে এর জন্য দায়ী করছেন।

