যশোরের মণিরামপুরে মাত্র ৫ হাজার টাকার পাওনা নিয়ে সংঘর্ষে মিন্টু হোসেন (৪২) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মিন্টুর ভাই সেন্টুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় পৌর এলাকার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি চায়ের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত মিন্টুকে ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মিন্টু উপজেলার হাকোবা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটল
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হাকোবা এলাকার সাব্বির হোসেন নামের এক ব্যক্তি মিন্টুর ভাই সেন্টুর চায়ের দোকানে গিয়ে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাব্বির ক্ষিপ্ত হয়ে সেন্টুর চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন মিন্টুসহ পরিবারের অন্যরা বাধা দিলে সাব্বির চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সে দলবল নিয়ে ফিরে এসে মিন্টুসহ তার দুই ভাই ও মা-বাবার ওপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে।
নিহতের বাবা আব্দুল আজিজ জানান, দুই বছর আগে তার ছেলে সেন্টুর একটি ভ্যান চুরি হয়। তখন স্থানীয় কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন তাদেরকে নতুন ভ্যান কেনার জন্য ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেন। সেই টাকা ফেরত চাননি আজিম। কিন্তু সম্প্রতি বড় সাব্বির নামের ওই ব্যক্তি আজিমের দেওয়া টাকার দাবি করতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মামলা ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৩০। পুলিশ হাকোবা গ্রামের ফারুক হোসেন (৪৫) ও ছোট সাব্বির নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল হোতা বড় সাব্বির এখনও পলাতক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অরুপ কুমার ঘোষ বলেন, “দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি বড় সাব্বিরকে ধরতে অভিযান চলছে।”
রাজনৈতিক নেতাদের শোক
মিন্টুর মৃত্যুর খবরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌরমেয়র অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

