যশোরে আসন পুনর্বিন্যাস প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াতের পৃথক কর্মসূচি

আরো পড়ুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে বিএনপি এবং বিকেলে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত।

দুপুরে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের বিপুলসংখ্যক ভোটার ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পরিবহনযোগে যশোরে এসে সার্কিট হাউস এলাকা থেকে মিছিলসহকারে জেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও করেন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ।

ঘেরাও চলাকালে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হলেও একটি মহল ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করতে চাইছে। যশোর-৬ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল পরিকল্পিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পুনর্বিন্যাসের আবেদন করেছেন। কর্মসূচি শেষে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন বিএনপি নেতারা।

অন্যদিকে বিকেলে শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূলের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জজকোর্ট মোড়ে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, আসন পুনর্বিন্যাসের নামে চিরায়ত নির্বাচনী সংস্কৃতি ধ্বংসের অপচেষ্টা চলছে। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সীমানা পরিবর্তনের উদ্যোগ চালানো হলে যশোরবাসী কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করবে। এর আগে তারাও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেন।

সমাবেশে জেলার আট উপজেলার জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেন, যাতে প্রস্তাবিত ৯০ নম্বর যশোর-৬ আসনে অভয়নগর উপজেলা, মণিরামপুরের ছয়টি ইউনিয়ন এবং কেশবপুরের তিনটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে জেলার বিভিন্ন আসনে বড় ধরনের সীমানা পরিবর্তন ঘটবে। এ কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন সংগঠন ধারাবাহিকভাবে এর বিরোধিতা করে আসছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ