যশোরের অভয়নগরে এক গর্ভবতী নারীকে জোরপূর্বক তালাকনামায় স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী, তার পরিবারের সদস্য এবং শুভড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শনিবার অভয়নগর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৭ মে পুলিশ সদস্য শফিকুর ইসলাম (বিপি নম্বর ৯৫১৫১৭৬৩২১)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি নিজেও সরকারি চাকরিজীবী। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর একাধিক পরকীয়ার সম্পর্কের খবর পান এবং প্রতিবাদ করলে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। পরে যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হলে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর তাকে অমানবিক নির্যাতন করে ঘরে আটকে রাখা হয়। পরদিন কৌশলে পালিয়ে চিকিৎসা নেন এবং বাবার বাড়ি চলে যান। পরিবার ও সমাজের সম্মানের কথা ভেবে শুরুতে আইনি ব্যবস্থা নেননি। তবে পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালিশ বৈঠক ডাকা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সালিশ বৈঠকে তার বক্তব্য না শুনে চেয়ারম্যান জোরপূর্বক তালাকের কাগজে স্বাক্ষর করাতে চাপ দেন। অস্বীকৃতি জানালে স্বামীপক্ষ ও স্থানীয়দের হুমকিতে তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। তিনি জানান, তার স্বামীর স্বাক্ষর আগেই ২৫ ফেব্রুয়ারি নেওয়া হয়েছিল। এ সময় তিনি গর্ভবতী থাকার কথা জানালেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে ৩ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে একটি সালিশনামা তৈরি করা হয়, যেখানে বলা হয় বাচ্চা জন্মের পর তালাক কার্যকর হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে অভয়নগর থানা ও পুলিশ সদর দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কোন পরিচয়ে গড়ে উঠবে? আমার অনাগত সন্তানের কি অপরাধ? আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে স্বামী শফিকুর ইসলাম বলেন, “উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে সালিশে তালাকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, কাউকে জোর করা হয়নি।” তিনি দ্বিতীয় বিয়ের কথাও স্বীকার করেন। ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতেই সালিশ হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী নারী গর্ভবতী ছিলেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের মো. হাবিবুর রহমান জানান, “পুলিশ সদর দফতর থেকে এ অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। আশা করছি চলতি সপ্তাহেই প্রতিবেদন দিতে পারব।”

