যশোর মেডিকেল কলেজ ছাত্র হোস্টেলে সোমবার রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উপস্থিতিকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাতের অন্ধকারে গোপন বৈঠক, তর্ক-বিতর্ক, হাতাহাতি এবং রাজনৈতিক পক্ষের হস্তক্ষেপে কয়েক ঘণ্টা অশান্ত থাকে হোস্টেল এলাকা। পরে পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সূত্র মতে, রাত প্রায় ৯টার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা হোস্টেলের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—সেখানে গোপন বৈঠক চলছিল। খবর পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রলীগের নেতারা হোস্টেল ত্যাগ করলেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির ও প্যারিস ঘটনাস্থলে যান এবং মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই ডাক্তার হলে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে হোস্টেল সুপার ডা. গাজী শরীফ, ড্যাব নেতা ডা. ফারুক এহতেশাম পরাগ, ডা. রবিউল ইসলাম তুহিন এবং যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি—ছাত্রলীগ নেতারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে হলে এসেছিলেন। অপরদিকে, আরেকটি সূত্র জানায়—তারা আসলে এক সহপাঠীর জন্মদিনে কেক কাটতে গিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী একটি ছাত্র সংগঠনের উসকানিতে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ বছর যশোর মেডিকেল কলেজ ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের প্রভাবাধীন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এর আগে ২৯ জুন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সন্ধানী’-এর পক্ষ থেকে নবীনবরণ ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন অপরপক্ষ একই ব্যানারে আলাদা নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর কলেজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের পর ১ জুলাই কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবু হাসনাত মো. আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো স্বেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে পারবে না (স্মারক নং-৫৯.১৪.৪১৮৭.০০০.১৪২.০৬.০০০১.২৫)।
তবে, এই নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি—রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে এনে দ্রুত কলেজে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

