যশোরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে অনলাইনে প্রচারণা, গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট

আরো পড়ুন

বাংলাদেশে সরকারিভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও যশোরে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দলটির পক্ষে প্রচারণা ও উসকানিমূলক পোস্ট এখনো অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন একাধিক মামলার পলাতক আসামি ও বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, বহিষ্কৃত ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম এবং অনুব্রত সাহা মিথুন, লুৎফুল কবীর বিজু, জুয়েল আহমেদ ঝিনুক, রওশন ইকবাল শাহীসহ আরও অনেকে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এইসব ব্যক্তি যশোরের বাইরে থেকে অনলাইনে সক্রিয় থাকলেও কিছু ব্যক্তি এখনো জেলায় অবস্থান করছেন। তারা ফেসবুকে নিয়মিত গুজব ছড়ানো, বর্তমান সরকারবিরোধী উসকানি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ১২ মে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনসমূহের যেকোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ প্রকাশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী এসব কার্যকলাপ দণ্ডনীয় অপরাধ।

তবে যশোরে আইন প্রয়োগে শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহারকারী অনুব্রত সাহা মিথুন, রওশন ইকবাল শাহী, প্রদীপ কুমার নাথ বাবলু, লুৎফুল কবীর বিজু, প্রীতম দেবনাথ ডাবলু, রাজিব আহমেদ, জুয়েল আহমেদ ঝিনুক, এবং মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকেই দিনে একাধিকবার নিষিদ্ধ দলের পক্ষে পোস্ট দিচ্ছেন। এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তারিকুল ইসলামের একটি পোস্টে ‘দাবায়া রাখতে পারবা না’ স্লোগানে ২২টি মন্তব্য ও ২৩৪টি লাইক পড়ে – যা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, এসব প্রচারণা কতটা ছড়িয়ে পড়ছে।

যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সাইবার ক্রাইম টিম ইতোমধ্যেই কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে এবং আরও যাচাই-বাছাই চলছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে এখনো পর্যন্ত কতগুলো অ্যাকাউন্ট শনাক্ত হয়েছে কিংবা কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এসব অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকারবিরোধী অপপ্রচার বেড়ে যাচ্ছে এবং এতে জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যখন একটি রাজনৈতিক দল আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ, তখন কেন তাদের অনলাইন প্রচারণা থামানো যাচ্ছে না?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সাইবার নজরদারির জোরদারকরণ ছাড়া এ ধরনের অপপ্রচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ