ইশরাক হোসেনের মেয়র হওয়ায় আর কোনো বাধা নেই: হাইকোর্টে রিট খারিজ

আরো পড়ুন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের গেজেট প্রকাশ ও শপথগ্রহণ স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে, ২১ মে (বুধবার) রিটের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন আদালত। শুনানিতে রিটের বিপক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী কায়সার কামাল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।

পটভূমি:

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিজয়ী হন এবং শপথ নিয়ে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে নির্বাচন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ফল বাতিল চেয়ে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ৩ মার্চ মামলা করেন।

২০২4 সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এরপর অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়াকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ২০২০ সালের নির্বাচনে শেখ ফজলে নূর তাপসের জয় বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন এবং ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে।

রিট ও বিরোধিতার চেষ্টা:

গেজেট প্রকাশের পর আইনজীবী রফিকুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত এবং শপথগ্রহণ বন্ধের দাবি জানিয়ে নোটিশ দেন। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা বলেন, রায়ের টার্ম শেষ, অধ্যাদেশে মেয়র পদ শূন্য হয়েছে এবং ইসি আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়াই গেজেট প্রকাশ করেছে।

এই যুক্তিতে মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে রিট করেন, যেখানে ট্রাইব্যুনালের রায় ও গেজেট অবৈধ ঘোষণা এবং শপথ স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়। তবে হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেয়।

পরবর্তী পরিস্থিতি:

রিট খারিজের খবরে ইশরাক হোসেনের শপথগ্রহণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে তার সমর্থকরা কয়েকদিন নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে পরে মৎস্য ভবন ও কাকরাইল এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। এখন তারা দ্রুত শপথের দাবি জানাচ্ছেন।

এই আদেশকে ইশরাকপন্থীরা আইনের বিজয় হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নির্বাচনকালীন ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের আইনগত স্বীকৃতির দৃষ্টান্ত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ