যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কথিত প্রতিবন্ধীর হামলায় উত্তেজনা, শিক্ষার্থী আটক

আরো পড়ুন

গতকাল দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কথিত এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আচরণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির হামলায় কার্যালয়ের দুই কর্মচারী আহত হন। পরে শিক্ষার্থীদের একটি দল কর্মচারীদের ওপর চড়াও হলে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

জেলা নাজির ও উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মহিবুল আক্তার জানান, কার্যালয়ের দোতলায় দুপুরে এক ব্যক্তি উচ্চস্বরে চিৎকার করছিলেন। কর্মচারী আবুল হাসান ও বাবুল হোসেন তাকে শান্ত হতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের হাতের ক্রাচ দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

এ সময় উপস্থিত কিছু স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী পরিস্থিতি না বুঝেই কথিত প্রতিবন্ধী মনিরুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন। তারা চড়-থাপ্পড় মারেন এবং পরে শিক্ষার্থীদের আরও একটি দল বাঁশ নিয়ে নাজিরখানায় আক্রমণের চেষ্টা করে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অন্য কর্মচারীরা তৎপর হয়ে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে আটক করে নাজিরখানায় বসিয়ে রাখেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

আহত কর্মচারী আবুল হাসান বলেন, “ওই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি দুই পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে হামলা চালিয়েছেন।” বাবুল হোসেনের কপালে ঘুষি এবং আবুল হাসানের আঙুলে কামড়ও দেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মনিরুল ইসলাম, যিনি চাঁচড়া রায়পাড়ার খোরশেদ আলমের ছেলে এবং মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

আটক পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন: নাজমুস সাকিব, নাসির হোসেন, শামীম হোসেন, নাসিম হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।” এই ঘটনা একটি ছোট বিষয়ের কীভাবে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলায় রূপ নিতে পারে, তার একটি পরিষ্কার উদাহরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ