শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন ইন্টারপোলে

আরো পড়ুন

মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তিন ধাপে এই আবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) সূত্রে।

আদালত, তদন্ত সংস্থা ও রাষ্ট্রপক্ষের অনুরোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইন্টারপোলের ১৯৬টি সদস্য দেশের সহায়তায় পলাতক এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রেড নোটিশের আবেদন যাঁদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আ ক ম মোজাম্মেল হক, হাছান মাহমুদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শেখ ফজলে নূর তাপস, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নসরুল হামিদ, মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রেড নোটিশ চাওয়া হয়েছে, আর বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ।

সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের অধিকাংশই বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট ভারত গমন করেন এবং এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকায় তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলা চলছে, যার মধ্যে একটি মামলায় ২০২৩ সালের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় আগামীকাল রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

তবে ইন্টারপোল এখনো রেড নোটিশ জারি করেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনীতিসংশ্লিষ্ট অভিযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারপোল সাধারণত অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করে। তবে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ খুলে দিতে পারে।

বর্তমানে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ তালিকায় বাংলাদেশি ৬২ জনের নাম রয়েছে। নতুন করে আবেদনকৃত ১২ জনের নাম এখনও তালিকায় যুক্ত হয়নি।

পুলিশ সূত্র জানায়, রেড নোটিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সমতুল নয়, তবে এটি অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এবং কোনো দেশে প্রবেশ কিংবা প্রস্থানের সময় আটক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, অনেকে অন্য দেশের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। পাশাপাশি, প্রভাবশালী পলাতকরা লবিস্ট নিয়োগসহ নানা কৌশলে দেশে প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে সক্রিয় রয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক ইনামুল হক জানান, “রেড নোটিশ সংক্রান্ত আবেদনের প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং ইন্টারপোল আসামিদের অবস্থান শনাক্তে সহযোগিতা করে থাকে।”

আরো পড়ুন

সর্বশেষ