যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটাগ্রামে সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। বাবার মৃত্যুর পর তার লাশ উঠানে ফেলে রেখে সন্তানদের মধ্যে জমি নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সমাধান হয়।
বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী হাবিবুর রহমান হবি বিশ্বাস (৭০)। তবে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধের কারণে তার জানাজা ও দাফনে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, হাবিবুর রহমান তার ছোট স্ত্রী ও ছেলে সোহেল বিশ্বাসের নামে ৮৩ শতক জমি লিখে দেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তার অন্য ছেলেরা—আতাউর, সুমন, আনোয়ার ও হাফিজুর। ফলে তারা বাবার দাফনে বাধা দেন এবং কবর খোঁড়ার কাজ বন্ধ করে দেন।
দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা উত্তেজনার পর স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে, বিতর্কিত ৮৩ শতকের মধ্যে ৫০ শতক জমি অন্য ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এরপরই দাফনের অনুমতি মেলে এবং রাত ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে হাবিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়।
সোহেল বিশ্বাস বলেন, ‘‘বাবা মারা যাওয়ার পর দাফনের চেষ্টা করলেও আমার সৎ ভাইয়েরা বাধা দেয়। পরে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ৫০ শতক জমি তাদের লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা দাফনের অনুমতি দেয়।’’
সালিশে উপস্থিত সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।’’
চলিশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান এই ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এটি পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধের চরম উদাহরণ। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সমাধান সম্ভব হয়েছে।’’
এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধ কতটা তীব্র হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ হয়েছে।

