যশোরের চৌগাছা উপজেলায় পারিবারিক দ্বন্দের জেরে স্বামী সিজার ওরফে রাকিবের বাঁশের আঘাতে স্ত্রী রেকসোনা খাতুনের (৩৫) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার নারায়নপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী রাকিব ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়নপুর গ্রামের সিজার ওরফে রাকিবের সাথে প্রায় ১০-১২ বছর আগে পেটভরা গ্রামের নাজমা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের ৭-৮ বছর পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে নাজমা খাতুন বাবার বাড়িতে ফিরে যান এবং বর্তমানে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন।
এরপর কয়েক বছর আগে রাকিব উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের রেকসোনা খাতুনকে বিয়ে করেন। শুরুতে তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে রেকসোনার সঙ্গে তার কলহ বাড়তে থাকে। এসব নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হতো।
সোমবার সকাল ৮টার দিকে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে পুনরায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রাকিব বাঁশ দিয়ে রেকসোনাকে মারধর করতে থাকে। একাধিক আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বক্তব্যগ্রামের চৌকিদার জামাত আলী জানান, “প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া চলছিল। ঘটনার দিন বাঁশের আঘাতে রেকসোনার মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ লাঠি নয়, ৫-৬ ফুট লম্বা বাঁশ কেটে আঘাত করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।”
নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, “সকালে খবর পেয়েছি যে, একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপচৌগাছা থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে, তবে তাকে দ্রুত আটক করার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।”

