অপপ্রচারে হয়রানি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

আরো পড়ুন

 যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের রাজারহাট জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভিডিওচিত্র নিয়ে অপপ্রচারের ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হয়েছেন। বুধবার রাতে মাদ্রাসায় অতিউৎসাহী কিছু মানুষ অনুষ্ঠান থেকে নেওয়া ভিডিও ছড়িয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জঙ্গি বলে প্রচার করে। কেউ কেউ ভিডিওটির সঙ্গে আইএসের তুলনা করে।

পুলিশ জানায়, ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর মাদ্রাসায় বার্ষিক অনুষ্ঠান হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা “যেমন খুশি তেমন সাজো” প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কিতাব বিভাগের তিন শিক্ষার্থী ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি নিয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে। এতে একজন শিক্ষার্থী ফিলিস্তিন নেতা সেজে আরবিতে বক্তব্য দেয়, আর অন্য দুই শিক্ষার্থী ককসিট দিয়ে তৈরি নকল অস্ত্র হাতে দাঁড়ায়।

মাদ্রাসার প্রধান মুফতি লুৎফর রহমান ফারুকী বলেন, “আমাদের মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও বার্ষিক অনুষ্ঠানে নানা প্রতিযোগিতা হয়। নাটকটি নিছক একটি অভিনয় ছিল। কিন্তু কিছু মানুষ ভিন্ন উদ্দেশ্যে ভিডিওটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে রাতেই সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। গুজব রটে যে, মাদ্রাসার এক ওয়াজ মাহফিলে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একদল সাংবাদিক মাদ্রাসায় গেলে পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম সিদ্দিকী জানান, ভিডিওটি যাচাই করে দেখা গেছে এটি একটি অভিনয়ের অংশ। ককসিট দিয়ে তৈরি নকল অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিডিওটি বিভ্রান্তিকরভাবে শেয়ার বা পোস্ট না করতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের সাইবার ইউনিট কাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “জেলা পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক প্রতিযোগিতার অংশ ছিল। অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে বিষয়টি নিয়ে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।”

এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে আরও বিভ্রান্তি রোধে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

4o

আরো পড়ুন

সর্বশেষ