দাফনের ৬১ দিন পর আদালতের নির্দেশে ঝিনাইদহে সোহান (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উত্তোলন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তত্ত্বাবধানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। সোহান ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রহস্যজনক পরিস্থিতিতে সোহানের মৃত্যু হয়। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ তড়িঘড়ি করে ঝিনাইদহের নগরবাথান গ্রামে দাফন করা হয়। দাফনের পর এলাকায় সোহানের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তার পিতা শহিদুল ইসলাম ঝিনাইদহ আদালতে ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শরীফ মরদেহ উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
সোহানের মা সুন্দরী খাতুন অভিযোগ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সোহানের কয়েকজন অজ্ঞাত বন্ধু তাকে ঘুরতে নিয়ে ঢাকার তিনশ’ ফিট এলাকায় যান। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছেলেকে বাড়ি ফিরে আসতে বলার জন্য ফোন করলে সোহান জানান, তিনি “ঝামেলায় আছেন”। এর কিছুক্ষণ পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান এবং দেখতে পান সোহানের দুই ফুফু, ডায়রি খাতুন ও আরজিনা খাতুন, হাসপাতালে উপস্থিত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শরীফ জানান, আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে সোহানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

