নিজস্ব প্রতিবেদক
রমজানের প্রথম দিন থেকেই মূল্যবৃদ্ধির গরমে ‘সিদ্ধ’ হচ্ছে মানুষ। রোজার একদিন আগে যে শসা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা একদিন পরেই ১১০-১২০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন ক্রেতারা। সারাদিন রোজা রেখে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে অধিকাংশ রোজাদার লেবুর শরবত পান করার চেষ্টা করেন ইফতারিতে। সেই লেবুর রস পান করাতো দূরের কথা, পাশে যাওয়ার সাধ্য আছে কয়জনের! একেবারেই ছালমোটা, রস নেই বললেই চলে সেই লেবুর হালি ৫০ টাকার নীচে না। এর বাইরে ৮০, ১০০, ১২০ টাকা হালিতেও লেবু বিক্রি করতে দেখা যায়। রোজার একদিন আগে যে গাজর ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেই গাজর প্রথম রোজায় ৫০ টাকা দাম হাঁকিয়েছেন বিক্রেতারা।
সারাদিন শেষে ডাবের পানি পান করার জো নেই রোজাদারদের। ১২০ টাকার নীচে কোনো ডাব নেই বাজারে! তরমুজ কিনতে গিয়ে অবাক হচ্ছেন অনেকেই। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এক পয়সাও কম নিচ্ছেন না বিক্রেতারা। কেজির হিসেবে প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাল্লার একপাশে তরমুজ আর অন্য পাশে টাকা রাখলে হয়তো টাকার পাল্লাই ভারী হবে!’
ইফতারের অত্যাবশকীয় খাবারের মধ্যে জিলাপি ও ডিমের চপ তালিকার শীর্ষে থাকে। তাও কেনার জো নেই। এতদিন যে শাহী জিলাপি ১০ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে তার দাম এবার ২০ টাকা। একই অবস্থা ডিমের চপেও। ২০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে এই চপ।
এতো গেল ইফতারি পণ্যের অবস্থা। তেঁতে উঠেছে গ্রীষ্মকালীন সবজির বাজারও। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। কচুরলতির দাম ঊর্ধ্বমুখী। একই দামে বিক্রি হচ্ছে উচ্ছেও। তবে, রোজার মুখরোচক আইটেম বেগুনির মূল যে উপাদান বেগুন তার দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা। এতদিন কাঁটা বেগুন বিক্রি হতো অন্যান্য বেগুনের চেয়ে বেশি দামে। রোজার শুরুতে কমেছে কাঁটা বেগুনের দাম, বেড়েছে লম্বা আকারের বেগুনে। লম্বা আকারের বেগুন বিক্রি হয় ৪০ টাকায়, আর কাঁটা বেগুন ৩০। সজনের পাশে যাওয়ার দুঃসাহস আছে খুব কম লোকেরই। যাদের পকেটের অবস্থা ভালো তারাই কিনছেন মৌসুমি এ তরকারি। বর্তমানে সজনে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে।
পাকা কলায় যেন আগুন জ্বলছে। কয়েকদিন আগে যে কলা সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ফানা বিক্রি হয়েছে, সেই কলার দাম এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তাও সেইরকম মানের না।
যশোর শহরের সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনে তরমুজ বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা। তিনি উচ্চদামে তরমুজ বিক্রি করলেও রঙ কিংবা সাদের গ্যারান্টি দিচ্ছেন না। ক্রেতারা তরমুজ টকটকে লাল কিনা কেটে দেখিয়ে দেওয়ার কথা বললে তিনি তাতে রাজি হচ্ছেন না। তার সাফ কথা, ‘কাটলে যাই হোক না কেন নিতে হবে।’ বিক্রেতার এ ধরনের অবস্থানের কারণে ক্রেতারা ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা বেশি দামে তরমুজ কিনছেন ভালো হওয়ার নিশ্চয়তা ছাড়াই।
এই অবস্থায় অনেক ক্রেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। হাবিবুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘রমজানের আগে বাজার মনিটরিংয়ে যশোরে প্রশাসনের কী ভূমিকা রয়েছে? মনিটরিংয়ের দুর্বলতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।’
তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘যে শসা আমাদের ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে সেই শসা উৎপাদনকারী কৃষক কত করে পাচ্ছেন? এটি দেখার দায়িত্ব কাদের? মনিটরিং যদি সঠিকভাবে হতো তাহলে ইচ্ছেমতো দামে পণ্য বিক্রি হতো না।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক তামান্না তাসনিম বলেন, ‘আমরা বাজার মনিটরিং করছি। রোজার আগের দিন বড়বাজারে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে চৌগাছায়। নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। কেনার রশিদে গরমিল পাওয়া গেলে জরিমানার আওতায় আসবে।’
জাগো/জেএইচ

