নিজস্ব প্রতিবেদক
বেনাপোলের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত বিজিবি সিপাহী মোহাম্মদ মোহাম্মদ রইশুদ্দীন ও সীমান্তে লাগাতার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, আমরা বন্ধু রাষ্ট্র চাই আমরা কোন প্রভু চাই না। সরকার যদি এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ না করে । তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচীতে যেতে বাধ্য হবো।
মানববন্ধনে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের জেলা শাখার সম্পাদক তসলিমুর রহমান বলেন, সীমান্তে থেকে একজন বিজিবি সদস্যকে বিএসএফ ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। শুধু এই হত্যা নয়; ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকরা এই বাহিনী একের পর এক হত্যা করেই চলেছে। কলকাতার একটি মানবাধিকার মাসুমের প্রকাশ করা একটি তালিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ১৯৭৬ সাল থেকে প্রায় ২৪ শ’ মানুষকে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ হত্যা করেছে। আমরা স্পৃষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের তারা বন্ধু রাষ্ঠ্র মুখে বললেও তাদের কাজে সেটা প্রমাণ করে না। ভারত আমাদের শত্রুরাষ্ঠ্র মনে করে আর আমরা তাদের বন্ধু রাষ্ঠু মনে করি। তারা আমাদের অভ্যন্তরীণ ও রাজনীতি ক্ষমতা নিয়ে তারা নাক গলায়। সরকার যদি এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ না করে । তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচীতে যেতে বাধ্য হবো। এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, সদস্য পলাশ বিশ্বাস প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন নিহত হয়। এর দুইদিন পর বুধবার শার্শা উপজেলার শিকারপুর ও ভারতের গাঙ্গুলিয়া সীমান্তে বিএসএফের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) প্রতিনিধিদলের কাছে লাশটি হস্তান্তর করেন। পরে মরাদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিজিবি সদস্যরা যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থিত ৪৯ বিজিবির প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যান। দুপুরে জানাজা শেষে বিজিবি কার্যালয়ে বিজিবি কর্মকর্তারা পরিবারের সদস্যদের কাছে রইশুদ্দিনের লাশটি হস্তান্তর করেন। নিহত বিজিবি সদস্য রইশুদ্দীনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর সাহাপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে।
জাগো/জেএইচ

