নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে সূর্যের দেখা মেলেনি। কনকনে শীতে কাঁপছে যশোর। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। আজ সোমবার যশোর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল থেকে মৃদু বাতাস বইছে। তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। অন্যদিকে, ঘণ কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে দূরপাল্লার যানবাহন।
যশোর বিমান বাহিনীর মতিউর রহমান ঘাঁটি আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য মতে, ‘যশোরের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশ ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়া থাকার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। সূর্য না উঠায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শৈত্য প্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। মাঘের প্রথম দিকে মৃদু শৈত্য প্রবাহ শুরু হল, পুরো মাঘ মাসেও শীত থাকতে পারে।’
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক (মুজিব সড়ক) কথা হয়
রিকসা চালক নুরু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গ্যালোবারের চাইতি এবেড্ডা শীতটা বেশি মনে হচ্চে। দুটো পয়সা ইনকামের জন্নি বাজারে আসলিউ সেরাম প্যাসেঞ্জার পাওয়া যাচ্চে না।’
দড়াটানা এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক আলেক মিয়া বলেন, ‘খবরে শুনলাম এক সপ্তাহ থাকি খুব শীত পড়বে। রাতে ও সকালে বৃষ্টির মতো শীত (কুয়াশা) পড়েছে। ঠান্ডায় হাত-পা হিম হয়ে যায়। বাড়ির ছয়জন মানুষ রিকশার কামাইয়ের ওপর চলে। এক দিন কামাই (কাজ) না করলে পরের দিন চুলোতে আগুন জ্বলে না। আর কয়দিন ঠান্ডা থাকপেনে আল্লায় জানে। ’ শহরের পুলিশ লাইন এলাকার রিকশা চালক তরুন ঘোষ বলেন, ‘পেটের তাগিদে ঘরের বাইরে বের হতে হয়েছে। পেটে ভাত না থাকলে শীত, গরম আর বর্ষায় কী আসে যায়। রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কম। ঘুরে ঘুরে তেমন একটা ভাড়া হচ্ছে না। অলস সময় পার করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।’ শহরের রেল স্টেশন এলাকার মাছ বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বরপের মতো ঠান্ডা। ঘেরে লাবলিই জমে যাওয়ার মতন অবস্তা। তাই এক-দু দিন পরপর মাছ ধরতি যাচ্চি। ডেলি ঘেরে লাবলি ঠান্ডায় মইরে যাতি হবে।’
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাঁচি-কাশিসহ কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অপরদিকে শীতের কারণে সারাদিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা যায়। হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর চাপ। চিকিৎসকরা শীতকালীন রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে গরম পানি পান করাসহ গরম কাপড় ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে।
এই বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া ৪৩ হাজার পিস কম্বল ইতোমধ্যে জেলার ৮ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। বরাদ্দ পেলে আবার বিতরণ করা হবে। সরকারি কম্বল ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কম্বল বিতরণ করছে।তবে সেটা অনেক কম। তাই সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনকে শীতার্ত মানুষের মাঝে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর চাপ থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘গত ১২ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪০ জন বৃদ্ধ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এটা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।
জাগো/জেএইচ

