সরকারি সার পাচারকালে ২০বস্তা সারসহ দুজন আটক

আরো পড়ুন

যশোরে হামিদপুরে সরকারি সার পাচারকালে ২০বস্তা সার উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। মোবাইল কোটের মাধ্যমে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার আত্মসাত করে বিক্রির উদ্দেশে ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নসিমনযোগে হামিদুর বাজারের নয়ন এন্টারপ্রাইজে নামে এক প্রতিষ্ঠানে পাঠান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

রোববার সার পাচারে অভিযোগে স্থানীয় জনতা সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত করে এবং আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি নেয়।

হামিদপুর ও ফতেপুর এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় এলাকার নসিমন চালক সাইফার আলী ২০ বস্তা সরকারি এমওপি সার নিয়ে বাজারের নয়ন এন্টারপ্রাইজে আসেন। সার, সিমেন্ট ও কীটনাশক বিক্রেতা শাহাব উদ্দিন আহম্মেদের দোকানে ওই সার পৌঁছালে স্থানীয় কৃষক-জনতা খবর পেয়ে দোকান ঘেরাও করে। ঘণ্টা খানেক কৃষকরা ওই দোকানের সামনে হট্টোগোল করে। পরে স্থানীয় চানপাড়া ফাঁড়ি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

স্থানীয় কৃষক রমজান আলী জানিয়েছেন, ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন তার একটি গুদামে ওই এমওপি সার গোপনে রেখে দিয়েছিলেন। রোববার একটি নসিমনযোগে ওই সার নয়ন এন্টারপ্রাইজে পাঠান বিক্রি করতে। এর কিছুদিন আগে কৃষকদের মধ্যে ওই সারের একটি অংশ বিতরণ করা হয়। অনেক কার্ডের অনুকুলে সার না দিয়ে প্রতারণা করে আত্মসাৎ করে বিক্রি করেছে। তা রোববার সন্ধ্যায় ধরা পড়েছে।

নাম না প্রকাশে তিন জন কৃষক বলেন, এটা কৃষি প্রণোদনার সার। বিনামূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য। কিন্তু চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন তা আত্মসাৎ করে বিক্রি করেন নয়ন এন্টারপ্রাইজের কাছে। এলাকার নসিমন চালক ও সার বহনকারী সাইফার আলী এবং দোকানি তাদের কাছে চেয়ারম্যানের সার বলে স্বীকারও করেছেন।

জনতার হেফাজতে নসিমন চালক সাইফুল ইসলাম সাইফার জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের সোহরাব হোসেনের গুদাম থেকে ওই ২০ বস্তা সার এনেছেন নয়ন এন্টারপ্রাইজে। চেয়ারম্যানের গুদামে আরও সার আছে।

এদিকে, যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) পলাশ কুমার জানিয়েছেন, ‘এটা বিএডিসির বস্তায় সরকারি সার। স্থানীয় জনতার সন্দেহ করছেন, সারটি কৃষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দের সার। সরকারি সার কি না পরিস্কার হতে পারেনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে খবর দেয়া হয়েছে। তিনি আসলেই সব পরিস্কার হবে।’

নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ও যশোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, মোবাইল কোট পরিচালনা করে দুইজনকে আটক করেছি। সার ক্রয়ের রশিদ দেখাতে না পারায় নসিম চালক এবং প্রতিষ্ঠানের মালিককে আটক করা হয়। তিনি আরও বলেন, আগামীকাল তদন্ত করা হবে। তখন প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন এবং নয়ন এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহাবুদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ