যশোরে পৌষের শেষে শীতের কাঁপুনি

আরো পড়ুন

যশোরে শীতের সাথে ঘন কুয়াশায় স্থবির জনজীবন। বিপাকে পড়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। শীতকে উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমানঘাঁটির আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলাতে আজ রবিবার সবনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে ও শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ১৫ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অবস্থা চলমান থাকবে। এরপরে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ। শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। শীতের কারণে যশোরের সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগী। যশোর ২৫০ শয্য বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শুধু জ্বর, ঠান্ডা, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগী প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছেন শতাধিক। এদের মধ্যে অধিকাংশই জ্বর, ঠান্ডা, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগী। ঠান্ডা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশুদের মা-বাবা চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে ছুটে আসলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অধিকাংশ অভিভাবক তাদের শিশুদের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালে শিশুকে ভর্তি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আফসার আলী বলেন, শীতে ঠান্ডাজনিত রোগবালাই বেশি দেখা দেয় এটা সত্য। তবে শীতে এ মৌসুমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু বেশি। এছাড়াও জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। এসব রোগ-বালাই থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় সচেতনতা ও সাবধানে থাকা।

অন্যদিকে, শীতকে উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। ফলে শীতের কাপুড়ে চাহিদা বেড়েছে।
এদিন মুজিব সড়কের ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী ফাহাদ হোসেন বলেন, অন্যদিনের তুলনায় আজকে শীত বেশি পড়লেও লোকজন বাইরে কম বের হয়েছে। শীতের জামা কাপড় বিক্রি বেড়েছে।
যশোর শহরের রিক্সা চালক রাজিব হোসেন বলেন, শীতের কারণে আজকে বাসা থেকে দেরিতে বের হয়ছি। তারপরও ছুটির দিন কিন্তু রাস্তায় লোকজন কম।

আপর একজন রিক্সা চালক সোহেল রানা বলেন, সকাল থেকে কুয়াশা না থাকলেও বাতাসের কারণে রিক্সা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। রিক্সা হাতলে হাত রাখা যাচ্ছে না। বাতাসে হাত-পা সব ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

অপর একজন বেসরকারি চাকরিজীবী মেহেদী হাসান বলেন, ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে বাইরে এসে বিপাকে পড়েছি। এ বছরে আজকে শীত পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

জাগো/এসআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ