গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চারজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার চার দিন পরও এ ঘটনায় কোনো নাশকতাকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ঘটনায় পরিকল্পনাকারীসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে ট্রেনটিতে কে বা কারা আগুন দিয়েছিল সে তথ্য এখনো তারা জানতে পারেননি।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের লাশ এখনো মর্গে পড়ে আছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য সিআইডি তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।
অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে অনেকে এখনো জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, আসামিদের গ্রেফতারের পাশাপাশি ঘটনার কারণ ও রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ট্রেনে শিকল টানলেও তা কাজ করেনি
মামলার বাদী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক (গার্ড) এস এম নূরুল ইসলাম (৫৭) এজাহারে উল্লেখ করেন, ৫ জানুয়ারি দুপুর ১টার সময় ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে। রাত আনুমানিক ৯টার সময় ট্রেনটি সায়েদাবাদ এলাকায় পৌঁছানো মাত্র ট্রেনের ৭৯৩৭ নম্বর কোচের বগি ‘চ’তে ধোঁয়া দেখে চিৎকার শুরু করেন যাত্রীরা। তখন ওই বগিতে দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আলী আগুন আগুন বলে চিৎকার করে যাত্রীদের সতর্ক হতে বলেন এবং ট্রেনের শিকল টেনে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় আমি (বাদী) ভ্যাকুয়াম প্রেস করে ট্রেনটি থামাই। রাত আনুমানিক ৯টা ২ মিনিটের দিকে গোপীবাগ ও গোলাপবাগের মাঝামাঝি জামে মসজিদের সামনে ট্রেনটি থামে। ততক্ষণে আগুন দাউ দাউ করে ‘চ’ বগি থেকে ‘ছ’ বগিতে এবং ‘পাওয়ার কার নম্বর ৭৫২৬ ‘ভ’ বগিতে ছড়িয়ে পড়ে।
কাল থেকে চলবে বেনাপোল এক্সপ্রেস
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে বন্ধ রয়েছে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি। ঘটনার দিন গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে বেনাপোল যাওয়ার শিডিউল বাতিল করা হয়। তবে কাল থেকে ট্রেনটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।
কমলাপুর রেলস্টেশনের মাস্টার আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বেনাপোল থেকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। পরে ওই দিন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে আবার বেনাপোলের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ট্রেনটি সাপ্তাহিক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সেদিন ট্রেনটি চালু করা হবে।
বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখনো স্বজনের লাশ বুঝে নিতে পারছেন না। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় নাশকতাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে।
জাগো/আরএইচএম

