নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর-৪ আসনে ভোটের মাঠে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এনামুল হক বাবুল। তারপরও প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষও তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। এ আসনে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ থাকা বর্তমান এমপি রণজিৎ কুমার রায়ও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে গতকাল সোমবার পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় তাঁর কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়েনি। তবে এ আসনে এবার ভোটের মাঠে জায়গা করে নিতে শক্ত লড়াইয়ে রয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী জহুরুল হক।
যশোর-৪ আসনে এবার আটজন নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সচিব সন্তোষ অধিকারীর মনোনয়ন বাতিল হয়। এখন নৌকার এনামুল হক বাবুল, স্বতন্ত্র রণজিৎ কুমার ও জাপার জহুরুল হক ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন তৃণমূল বিএনপির শাব্বির আহমেদ, জাকের পার্টির লিটন মোল্যা, বিএনএমের সুকৃতী কুমার মণ্ডল ও ইসলামী আন্দোলনের ইউনুস আলী।
যশোর-৪ আসনে গিয়ে দেখা যায়, নৌকার প্রার্থী বাবুল ও তাঁর পক্ষে দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এলাকার নানা প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। কর্মী সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও পথসভা করে ভোটারদের কাছে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরছেন তারা। তবে কোথাও তেমন চোখে পড়েনি এমপি রণজিতের কোনো নির্বাচনী তৎপরতা। নির্বাচনী এলাকার কোনো জায়গায় পোস্টার যেমন সাঁটানো হয়নি, তেমনি রণজিৎ করেননি কোনো সভা-সমাবেশও। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ইউনুস আলীরও কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়েনি। তবে মাঠে রয়েছেন জাপার জহুরুল হক।
তৃণমূল বিএনপির শাব্বির আহমেদ ও বিএনএমের সুকৃতী মণ্ডলের কিছু জায়গায় পোস্টার দেখা গেছে। জানা গেছে, তারা ভোটের মাঠে শক্ত জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে জাকের পার্টি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় দলটির প্রার্থী লিটন মোল্যার এখন তৎপরতা নেই।
স্থানীয় সূত্র বলছে, এমপি রণজিৎ বিভাজন ও অবহেলা করলেও দলের ত্যাগী নেতাদের পাশে ছায়া হয়ে থেকেছেন অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এনামুল হক বাবুল। দল তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ায় এবার আশায় বুক বেঁধেছে এলাকার মানুষ। সবাই মিলে নৌকাকে জয়ী করতে বদ্ধপরিকর। সদর উপজেলার বসুন্দিয়ার বাসিন্দা সাজেদুর রহমান ফারাজী বলেন, তিনবারের এমপি রণজিৎ রায় মানুষের কোনো কাজে আসেননি। তিনি স্কুল-কলেজের নিয়োগ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভয়নগরের চলিশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রণজিৎ কুমার এবার নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা জেনেশুনেই তাঁকে এবার মনোনয়ন দেননি।’
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের রণজিৎ রায় বলেন, ‘আমি এখন বিশেষ কাজে ঢাকায় আছি। ফিরে কথা বলব।’ তবে একটি বেসরকারি চ্যানেলকে তিনি বলেন, নৌকার বিপক্ষে আমি নির্বাচন করব না।
লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল হক বলেন, ‘এ আসনে দু’বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিতেছিলেন। আমি শতভাগ আশাবাদী, প্রকৃত ভোট হলে এবারও লাঙ্গল জিতবে।’
অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস বলেন, নৌকার বিজয় হলে এ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। আমরা নৌকার জয়ের জন্য কাজ করছি।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হক বাবুল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা যে আশা নিয়ে আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন, আমি জনগণের ভোটে জয়লাভ করে আসনটি অবশ্যই তাঁকে উপহার দিতে চাই। আমার সঙ্গে জনগণের ভালোবাসা আছে। ভোটে নৌকার জয় হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে যেতে পারলে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজ করে যাব।’
জাগো/জেএইচ

