নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যশোর-৫ (মনিরামপুর) ভোটের রাজনীতি। আসনটিতে নৌকা সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলা, ভাংচুর ও হুমকির পালটাপালটি অভিযোগ উঠছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রশাসনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলী। তিনি অভিযোগ করেন, গত চারদিনে ছয়টি ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলীর অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সর্বশেষ বুধবার রাতে উপজেলার কাশিমপুর এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল ও গাড়ি। আহত হয়েছেন ৮ জন। এসব হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে সুপ্রিয় ভট্টাচার্য ও তার ভাগ্নে যুবলীগের আহ্বায়ক উত্তম চক্রবর্ত্তী বাচ্চু। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আওয়ামী লীগনেতা জিএম মজিদসহ বেশ কয়েকজনকে প্রকাশ্যে বিভিন্ন সমাবেশে নৌকার কর্মীরা হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।
এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন চরমপন্থীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সবাই নৌকার প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলী বলেন, প্রতিটি জায়গায় হামলার শিকার হলে ঘটনা স্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) হাসান আলী উপস্থিত হচ্ছেন। সেখানে গিয়ে নৌকার সমার্থকদের জরিমানা না করে উল্টো যারা মার খাচ্ছে তাদেরকেই জরিমানা করছেন। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক আমার নেতাকর্মীকে জরিমানা করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভুমি) হাসান আলী দায়িত্বে থাকলে এখানে সুষ্ঠু ভোট হবে না। এজন্য তাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের নৌকার প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমি সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা না নিয়েই ভোট করছি। নির্বাচনের সকল নীতিমালা মেনেই কাজ করছি। এবার দিয়ে আমার চতুর্থ নির্বাচন হবে। কোন অনিয়ম কিংবা প্রভাবিত করার মত কোন কাজ করার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, প্রশাসন আমাদের বিরুদ্ধেও কিন্তু জরিমানা করেছে। আমাদেরকে ছাড় দেয়নি। বিজয় দিবসের র্যালিতেও আমাদের জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসন এত দুর্বল নয়, যে আমাদের আমার অনুকূল মেনেই কাজ করবে। নির্বাচন কমিশন খুবই কঠোর। নিরক্ষেপভাবে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি) হাসান আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ মনগড়া। যারা আচারণ বিধি লঙ্ঘন করছে, তাদেরকেই জরিমানা করা হয়েছে। সেটা কোন দল সেটা বিবেচ্য বিষয় না। তার অভিযোগ মিথ্যা।’
যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে ৩২ জন প্রার্থী লড়ছেন। নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। যশোর-১ (শার্শা), যশোর-৫ (মনিরামপুর) ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপর হামলা ও হুমকি ধামকির অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌকার প্রার্থী ও তার সমর্থকরা।
জেবি/জেএইচ

