চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রথম মাসে লোকসান দিয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। গত ২৯ অক্টোবর টানেলে যানবাহন চলাচল শুরুর পর গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত টানেল থেকে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে টানেলের প্রথম মাসের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হয়েছে ৭১ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
টানেলের আয়ের প্রধান এবং একমাত্র উৎস যানবাহনের টোল। টানেলের পারাপারের জন্য যানবাহনের ১২টি শ্রেণী ও টোল হার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্রাইভেট কারের টোল ২০০, মাইক্রো বাস ২৫০ টাকা। ৩১ বা তার চেয়ে কম আসনের বাসের টোল ৩০০ টাকা। এর চেয়ে বেশি আসনের বাসের জন্য ৪০০ টাকা। তিন এক্সেলের বাসের জন্য ৫০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ টন পর্যন্ত ট্রাকের টোল ৪০০ টাকা। পাঁচ থেকে আট টন পর্যন্ত ট্রাকের টোল ৫০০, আট থেকে ১১ টন পর্যন্ত ট্রাকের টোল ৬০০ টাকা। অন্যদিকে, তিন এক্সেলের ট্রাক/ট্রেইলারের টোল ধরা হয়েছে ৮০০ টাকা। চার এক্সেলের ট্রাক/ট্রেইলারের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। চার এক্সেলের বেশি হলে এক্সেলপ্রতি আরও ২০০ টাকা টোল দিতে হবে।
টানেলটি নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মাসে ঠিকাদারের মোবিলাইজেশনের টাকা ও নতুন ৪টি স্ক্যানার কেনার ব্যয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়ের খাতে দেখানোর ফলে আয় ও ব্যয়ের বড় পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হোসেন জানান, মূলত প্রথম মাসে ঠিকাদারকে মোবিলাইজেশনের টাকা দিতে হয়েছে। এর বাইরে চারটি স্ক্যানার যন্ত্র কেনা হচ্ছে, যেগুলো যানবাহন স্ক্যানের কাজে ব্যবহার হবে। ঠিকাদারের মোবিলাইজেশনের টাকা ও স্ক্যানার কেনার ব্যয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়ের খাতে রাখা হয়েছে। ফলে টানেলের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। পরবর্তী মাসে এমন ব্যয় থাকবে না। আগামী মাসগুলোতে আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য কমে আসবে।
টানেল সূত্রে জানা গেছে, টানেল পরিচালনায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ, অক্সিজেন সরবরাহ এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড অপসারণে বড় ব্যয় হয়। এ ছাড়া, রেগুলার মেইনটেন্সেও খরচ রয়েছে। তবে, প্রথমদিকে যন্ত্রপাতি কেনার খরচ ব্যয় খাতে যুক্ত হওয়ায় আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে। পরবর্তীতে এই ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে।
টানেলের লোকসানের কারণ
টানেলের প্রথম মাসে লোকসানের প্রধান কারণ হলো, প্রথম মাসে টানেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয় ছিল খুব বেশি। এই ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে:
- ঠিকাদারের মোবিলাইজেশনের খরচ
- নতুন স্ক্যানার কেনার খরচ
- বিদ্যুৎ সরবরাহ
- অক্সিজেন সরবরাহ
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড অপসারণ
- রেগুলার মেইনটেন্স
এই ব্যয়গুলি পরবর্তী মাসে কমে আসবে। এছাড়াও, টানেলের ব্যবহার বাড়লে আয়ও বাড়বে। ফলে আগামী মাসগুলোতে টানেলের লোকসান কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাগো/আরএইচএম

