নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামি রবিবার। খেলাপি ঋণের কারণে বাতিল হওয়া বাবলুরের প্রার্থীতা চুড়ান্ত করবে দেশের উচ্চ আদালত। এর আগে, গত ১৩ ডিসেম্বর খেলাপি ঋণের কারণে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে বাঘারপাড়া-অভয়নগরের এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের মনোনয়নপত্র বাতিল করে। রড-সিমেন্টের ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ ফেরত না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে।
জানা যায়, যাচাই-বাছাইয়ে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া -অভয়নগর ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে তার মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী সুকৃতি কুমার মণ্ডল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ রনজিত রায়। সেই আপিলের পর শুনানি শেষে গত ১৩ ডিসেম্বর বাবুলের বিপক্ষে রায় দেয় ইসি।
খেলাপি ঋণের কারণে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে। বাবুলের প্রার্থিতা বাতিলের রায় ঘোষণা করে ইসি জানিয়েছিলেন, বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল নির্মাণসামগ্রী রড সিমেন্টের ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাবুল সেটি ফেরত দেননি। এই বিষয়ে বাবুলের আইনজীবী হারুনুর রশিদ খান বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনে ন্যয়বিচার পাইনি। হাই কোর্টে আপিল করেছি। সেখানে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশা করছি। বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, আমরা নৌকা প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মতবিনিময় করছি। মাঠ গোছানোর ক্ষেত্রে আমরা সকল কাজ শেষ করেছি। আশা করছি আগামি রবিবার উচ্চ আদালত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করবে।
এদিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বাকী রয়েছে একদিন। আগামি ১৭ ডিসেম্বর জেলা ও উপজেলা রিটানিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীতা বাতিল করতে পারবে। এর পরের দিন ১৮ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ। এদিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা করতে পারবে প্রার্থীরা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণাও সময়ও শুরু না হলেও যশোরের ৬টি আসনেই সব প্রার্থীরা কর্মী সমাবেশের নামে প্রচারণা করছেন সব দলের প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এই প্রচারণা বা সমাবেশ বেশি করছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখন চলছে আপিল শুনানি, এটি শেষ হবে শুক্রবার। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৭ জানুয়ারি।
জেবি/জেএইচ

