যশোরের বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যাণ সংস্থার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ব্যবহার করে দীর্ঘদীন যাবৎ বিধি বর্হিভূত চড়া সুদে ঋণ প্রদান করে আসছে “ নবযাত্রা ”নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যান সংস্থা।
অসহায় ও সমস্যাগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান, উন্নয়ন সহ সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ড পরিচালনার কথা থাকলেও “নবযাত্রার” চড়া সুদের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে বিপাকে দরিদ্র শ্রেনীর মানুষ।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “ নবযাত্রার” কর্মকান্ড বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, বেনাপোল গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র শাহারিয়ার নিয়াজ নাজমুল (৩৭) “ নবযাত্রা” নামে পাস বই ছাপিয়ে বেনাপোল পৌর ও পাশ্ববর্তী এলাকা জুড়ে আনুমানিক তিনশত সদস্যের মাঝে অবৈধ্য পন্থায় উচ্চ সুদে ( ১৬% হতে ২০%) ঋণ প্রদান করেছেন।
এলাকার সামাজিক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে সংগঠনটির সম্পৃক্ততা না থাকলেও রয়েছে এলাকায় ক্লাবের নামে ভয়ভিতী প্রদর্শন,দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা ও বিচার কাজের নামে প্রহসনের অভিযোগ।এলাকার স্থানীয়দের কাছে নবযাত্রার পরিচিতি না থাকলেও খাতা-কলমে এটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
বেনাপোল কলেজের বিপরীতে সরকারী জায়গায় হাকরের উপর সংগঠনটির একটি কার্যালয় থাকলেও নেই তার কার্যক্রম। নবযাত্রা নামে বেনাপোল পৌরসভা এলকায় বিগত ২০০৬ ইং সালে যশোর কার্যালয় হতে নিবন্ধন দেওয়া হয় যাহার রেজি নং- ১২১৫/০৬ বলে নিশ্চিত করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন অফিসার আশরাফুল।
আর্তমানবতার সেবা ও সমাজ উন্নয়নে নিবেদিত নবযাত্রা স্লোগানে লাইসেন্স প্রাপ্তির সময়ে সংগঠনটির একটি কমিটি থাকলেও এখন একক কর্তৃত্ব শাহারিয়ার নিয়াজ নাজমুলের।এক কথায় বলা যায় ঋণ প্রদানের নামে সুদ ব্যবসায় সংগঠনটির একমাত্র কাজ। আর ঢাল হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন নাম্বার।
বিষয়টি মুঠোফোনে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান,সমাজসেবা অধিদপ্তর হতে লাইসেন্স প্রাপ্ত কোন প্রতিষ্ঠান ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেনা। আমরা নিবন্ধন দেওয়ার সময় সতর্ক করে দিই। নবযাত্রা সংস্থার ব্যাপারে শার্শা উপজেলা অফিসে কোন তথ্য নাই। যদি তাহারা ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করে তা বিধিবর্হিভূত।
যশোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইতি দত্ত সেন জানান,অনুমতি বিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবযাত্রার ঋণ প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করে পরিচালক শাহারিয়ার নাজমুল জানান,বর্তমান তিনি ঋণ প্রদান করেন না।শার্শা হতে আরো ১টি লাইসেন্স নেওয়া আছে বলে তিনি আরো জানান। যদিও অপর লাইসেন্সটির হদিস মেলেনি।
নবযাত্রার বিতর্কিত ঋণ প্রদান দীর্ঘ সময় ধরে চললেও টনক নড়েনী সংশ্লিষ্টদের। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে “ নবযাত্রার” সেবার বিপরীতে অপরাধমূলক ও অবৈধ্য সুদ ব্যবসা পরিচালনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকার সুশীল সমাজ।

