যশোরে বাসচাপায় ৭ জন নিহত, চালককে পুলিশে সোপর্দ

আরো পড়ুন

যশোর-মাগুরা মহাসড়কের লেবুতলায় চলন্ত বাসচাপায় ইজিবাইকে ৭ জন নিহতের ঘটনার সাথে জড়িত বাস চালিক মিজানুর রহমানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে যশোর বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (৮ জুলাই) রাতে কোতয়ালি থানায় সোপর্দ ঘটনা ঘটে। এর আগে চালককে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়।

এ সময় যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) বেলাল হোসাইন, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তাজুল ইসলাম, খাজুরা বাস মালিক সমিতির সভাপতি হোসেন আলী, যশোর বাস মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন, জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হারুনুর রশিদ ফুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুর্ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞানামা হিসেবে ওই বাসের চালককে আসামি করা হয়েছিল।

পুলিশের কাছে সোপার্দ করা বাস চালক মিজানুর রহমান বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠান পাইকপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম শেখের ছেলে।

বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর মুন্সিপাড়ার আব্দুল মান্নান মুন্সির ছেলে ছোটন হোসেন রয়েল বাদী হয়ে ডিলাক্স নাম বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৩৮৭৬) চালকের নামে মামলাটি করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) বেলাল হোসাইন বলেন, ঘটনার পর রয়েল পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়। সেইসঙ্গে বাসচালককে আটকের চেষ্টা করা হয়। যশোরের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। আমরা এই দুর্ঘটনা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছি। রবিবার আদালতে পাঠানো হবে।

এদিকে, দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটেছিলো জানতে চাইলে বাসচালক মিজানুর বলেন, এই দুর্ঘটনা আমি ইচ্ছা করে ঘটাইনি। হঠাৎ করেই ইজিবাইকটি আমার গাড়ির সামনে চলে আসে। সেটি দেখে দ্রুত ব্রেক করি। দ্রুত ব্রেক করার কারণে গাড়ির ব্রেক মেশিন ভেঙে যায়। গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না। ফলে ইজিবাইকটিতে ধাক্কা লাগে।

এ ঘটনার মামলার বাদী ছোটন হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে খাজুরা বাজার থেকে ইজিবাইক চালক ইমরান হোসেন মুন্নাকে সাথে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা যশোরে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে খাজুরা বাজারে পৌঁছালে রয়েল ডিলাক্সের ওই বাস ইজিবাইকের সামনে এসে ধাক্কায় দেয়। এতে ইজিবাইকটি বাসের নিচে পড়ে যায়। বাসটিও উল্টে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তার ভাবি মাহিমা (৪৫), ভাতিজি সোনিয়া (২৫), ভাবির বোন ফাহিমা (৩৫), ফাহিমার মেয়ে জেবা (৭), ভাতিজির দুই ছেলে হাসান (২) ও হোসাইন (২), তার পুতনি ফাতিমা (৫) মারা যায় । আহত অবস্থায় জেবা, ইমরান, মুন্না, হোসাইন, ফাতিমা ও সোনিয়াকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে জেবা, মুন্না ও ইমরান মারা যায়। সোনিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

যশোর পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু জানিয়েছেন, লেবুতলায় যে ঘটনা ঘটেছে তার মার্মান্তিক ও হৃদয় বিদায়ক। এই ঘটনার সাথে বাস চালক জড়িত কি-না তা তদন্ত করছে পুলিশ । পুলিশকে সহযোগিতার জন্য বাস চালক মিজানুর রহমানকে তাদের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শ্রমিক নেতা মিঠু জানিয়েছেন, মহাসড়কে ভিন্ন গতির যানবাহন চলাচলের কারণে এই দুর্ঘটনায় ঘটছে। মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, কমিরন, আলমসাধু, থ্রি-হুইলারসহ নানা গতির যানবাহন চলাচল করে । ফলে রাস্তায় বাস, ট্রাক বা অন্য কোন দ্রুত গতির যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। যশোরের শ্রমিক সংগঠন গুলো এর প্রতিবাদে নানা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ