দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ফের চালু হচ্ছে। আগামী সোমবার জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে বলে কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা আশা করছেন।
এদিকে, গত ৯ মে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লাবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কয়লা খালাসের কাজ শুরু হয়নি।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া পার্টনারশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বলেন, আশা করছি শুক্রবার কয়লা আনলোড (খালাস) শুরু হবে। আনলোড শেষে রামপালে কয়লা পৌঁছাতে রবিবার পর্যন্ত লেগে যাবে। আশা করছি, সোমবার থেকে কেন্দ্রটি চালু করতে পারব। তিনি আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আছে। এই বিষয়টিও আমাদের আমলে নিতে হচ্ছে। যদি ঘূর্ণিঝড়ে কোনো প্রভাব না পড়ে, তাহলে সোমবার থেকে কেন্দ্রটি চালু হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির ১০ বছর পর গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। উৎপাদনে আসার পর কারিগরি ত্রুটির কারণে বেশ কয়েকবার বন্ধ হয়। ১৫ এপ্রিল একই কারণে চার দিন বন্ধ ছিল। পরে ২৪ এপ্রিল কয়লার অভাবে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। মূলত ডলার সংকটের কারণে কয়লা আমদানি করতে না পারায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ৯ মে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। আগামী সপ্তাহে একই পরিমাণ কয়লা নিয়ে আরো একটি জাহাজ আসবে। এই হিসাবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১ লাখ ১০ হাজার টন কয়লা আসবে। এই কেন্দ্রের একটি ইউনিট চালাতে দৈনিক ৫ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, ১ লাখ ১০ হাজার টন কয়লা দিয়ে ২২ দিন কেন্দ্রটি চালানো যাবে। বর্তমানে কেন্দ্রটির জন্য ৬ লাখ টন কয়লার ক্রয়াদেশ দিয়ে রেখেছে বিআইএফপিসিএল।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, রামপালে ফের উৎপাদন শুরু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। লোডশেডিং কমে আসবে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কমবে। গত মাসে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

