যশোর প্রতিনিধি
যশোরে আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা বিভিন্ন নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বিজ্ঞাপন ডাউনলোড করে সেখানে নিজেদের ফোন নম্বর বসিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করেছিলো চক্রটি। পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান।
আটকরা হলেন, প্রতারক চক্রের মূল হোতা চট্টগ্রাম দক্ষিন পাহাড়তলীর বারকুয়াদা গ্রামের মৃত শরীফ হোসেনের ছেলে শাকিল হোসেন , খাগড়াছড়ি মানিকছড়ির জহিরুল আলমের ছেলে শুকুর আলী ও পাবনার সাথিয়া উপজেলার নুরদহের সালাহউদ্দিন শেখের ছেলে মহিউদ্দিন শেখ নিরব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান জানান, বিভিন্ন নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বিজ্ঞাপন ডাউনলোড করে সেখানে নিজেদের নাম্বার বসিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড দিতেন তারা। পরে গ্রাহক তাদেরকে কল করলে তারা নিজেদেরকে ডাক্তার আবার কখনো সেলস ম্যানেজার পরিচয় দিতেন । চটেকদারী বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতয়ে নিতেন। শেষমেষ আসল পন্যের পরিবর্তে দিতেন ভেজাল পণ্য। এ কাজে তারা ব্যবহার করতেন একাধিক মোবাইল ফোন, সিমসহ বিভিন্ন সরজ্ঞাম। দির্ঘদিনধরে প্রতারণা করে আসলেও এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের তিন সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে যশোর কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা।
তিনি আরো জানান, শনিবার রাতে চট্রগ্রামের বায়েজিদ বোস্তমী থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত ১২ টি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ২২টি বাটন ফোন, ৩টি কম্পিউটার, ৬টি পেনড্রাইভ, ১টি ডিভিআর, ১টি ডিভিডি রাইটারসহ বিভিন্ন সরজ্ঞাম উদ্ধার করে পুলিশ। চলতি মাসেই তারা ২৩ লাখ টাকা বিকাশে লেনদেন করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম, তদন্ত ওসি একে এম সফিকুল আলম চৌধুরী, মামলা তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক তাপস মন্ডল, অভিযানে অংশ নেয়া উপ-পরিদর্শক আনসারুল হক প্রমুখ।

