নড়াইলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা পাচ্ছেন সাধারণ ক্ষমা

আরো পড়ুন

নড়াইলের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দল থেকে বহিষ্কৃতরা সাধারণ ক্ষমা পাচ্ছেন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সময় থাকতেই বহিষ্কৃতদের দলে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সভায় বহিষ্কৃতদের দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ক্ষমা পাচ্ছেন নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ২৯ জন। তাদের বিভিন্ন সময়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলে ফিরলেও তারা সংগঠনের দায়িত্ব এখনই পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান। আবার বহিষ্কৃতদের অনেকেই নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিতও হয়েছেন।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে আছেন জেলা পরিষদের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু, জেলা পরিষদের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বিপ্লব, লোহাগড়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ, সাধারণ সম্পাদক সিকদার নজরুল ইসলামসহ ২৯ জন।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খসরুল আলম পলাশ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে অবগত করা যাচ্ছে যে, বিগত সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যেসব নেতৃবৃন্দ দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অংশগ্রহণ করে সাময়িকভাবে বহিষ্কার দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে অনুতপ্তবোধের কারণে পুনরায় দলীয় নির্দেশ ও শৃঙ্খলার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের সুযোগ প্রার্থনা করেছেন তাদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বরাবর লিখিত আবেদন প্রেরণের অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সাধারণ ক্ষমা প্রত্যাশার আবেদনপত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত দলীয় নেতাকর্মীগণ স্ব-স্ব ইউনিট বা নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত আবেদন করতে বলা হয়েছে।

নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের পরবর্তী সভায় ওই আবেদনসমূহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক সুপারিশ করতঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ বরাবর প্রেরণ করা হইবে।

বহিষ্কৃত লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাউদ হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল সালাম, সহ-সভাপতি সিকদার কামরান ও সাংগঠনিক সম্পাদক জামিরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিকদার কামরান হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

বহিষ্কৃত সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমাকে নির্বাচনের সময় দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তবে এখন আমি সাধারণ ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে আবেদন করবো।

বহিষ্কৃত লোহাগড়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিকদার নজরুল ইসলাম বলেন, আমি মুখে মুখে শুনেছি আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে আমাকে কোনো অফিসিয়াল চিঠি দেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমি লোহাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলাম আমাকে দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে অন্য একজনকে দেয়া হয়। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হই। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ হয়ে থাকলে অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর ক্ষমা প্রার্থনা করে আবেদন করব।

বহিষ্কৃত লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু বলেন, আমি আর দলদারি করবো না।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, বহিষ্কৃতদের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে লিখিত দরখাস্ত আহবান করা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। লিখিত আবেদন পাওয়ার পর সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ