পারিবারিক কলোহের জেরে নাটোরের লালপুরে দ্বিতীয় স্ত্রী, তার ছেলে ও স্বজনদের ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাতে কালাম ওরফে বোমা কালাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) দিনগত রাতে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাদকয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরের একটি পুকুর থেকে তার ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে আল আমিনকে (১৬) আটক করা হয়েছে।
নিহত কালাম উপজেলার উদুনপুর গ্রামের ইনছার আলীর ছেলে। তিনি এলাকায় বোমা কামাল নামেও পরিচিত। আটক আল আমিন একই উপজেলার বড়বাদকয়া গ্রামের মো. হারুনের ছেলে। সে নিহত কালামের দ্বিতীয় স্ত্রী আরজিনা খাতুনের আগের পক্ষের ছেলে বলে জানা গেছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ারুজ্জামান বলেন, নিহত কালামের দুটি স্ত্রী। গত ১০ বছর আগে বড়বাদকয়া গ্রামের জহির উদ্দিনের মেয়ে আরজিনা খাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করে সেখানেই ঘরজামাই থাকতেন কালাম। দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ বিরাজ করছিল। তারই জেরে শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) দিনগত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্ত্রী, তার ছেলে ও স্বজনরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে কালামকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা রাতেই কালামের মরদেহ ভ্যান গাড়িতে করে তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে একটি পুকুরে ফেলে রেখে আসে।
ওসি আরো বলেন, গত রাতে মারপিটের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে কালামকে পাওয়া যায়নি, তবে বাড়ির পেছনে রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় ওই বাড়ির লোকজনও অনুপস্থিত ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে আরজিনা খাতুনের আগের পক্ষের ছেলে আল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বর্ণনা করে। তার দেওয়া তথ্য মতে, আজ (২৮ জানুয়ারি) সকালে ওই পুকুর থেকে কালামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পাশাপাশি নিহতের শরীর ও মুখমন্ডলে ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় নিহত কালামের ভাই শহিদুজ্জামান সালাম বাদি হয়ে স্ত্রী আরজিনা খাতুন ও তার আগের পক্ষের ছেলে আল আমিনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনকে আসামি করে আজ (২৮ জানুয়ারি) সকালে লালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি মনোয়ারুজ্জামান।

